গুজরাটে গো-হত্যা এবং গরুর মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে তিন মুসলিম ব্যক্তির যাবজ্জীবন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
গুজরাটের একটি আদালত গো-হত্যা এবং গরুর মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে তিন মুসলিম ব্যক্তিকে কঠোর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। রায় দেওয়ার সময় গো-সংরক্ষণের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরতে ভারতীয় আদালত হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্র—বেদ ও মনুস্মৃতির উল্লেখ করেছে।
গুজরাটের কালোল অঞ্চলের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক বি আর রাজপুত দণ্ডপ্রাপ্ত প্রতি আসামিকে ২ লাখ টাকা করে জরিমানাও করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—ওয়াসিম কুরাইশি, মাহমাদ রফিক কুরাইশি এবং আশফাক বাহেলিম। তারা সবাই আহমেদাবাদের বাসিন্দা।
‘গুজরাট পশু সংরক্ষণ (সংশোধনী) আইন’ এবং ‘প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইন’-সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ধারায় আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় ঘোষণা করেন।
পুলিশ উদ্ধার করে ২৭৭ কেজি গরুর মাংস
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট। তৎকালীন সময়ে পুলিশ জামলা গ্রামের লালাভাই সেনমা নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ২৭৭ কেজি গরুর মাংস বাজেয়াপ্ত করে।
অভিযানের সময় গো-হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং মাংস পরিবহনে ব্যবহৃত একটি যানবাহনও জব্দ করার দাবি করে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানান, আসামিরা গোলাম মইন কুরাইশি নামের এক ব্যক্তির কাছে এই মাংস বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিল।ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন।
রায়ে বেদ ও মনুস্মৃতির প্রসঙ্গ
সাজা ঘোষণার সময় হিন্দুত্ববাদী বিচারক বি আর রাজপুত প্রাচীন সংস্কৃত শ্লোক ও হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে গো-রক্ষার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন।
রায়ে গরুকে “বিশ্বের মাতা” বা ‘বিশ্বমাতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং এর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভাবাবেগের কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি, হিন্দু ঐতিহ্যে গরুর স্থান এবং গবাদিপশু রক্ষার দায়িত্ব তুলে ধরতে মনুস্মৃতির বিভিন্ন শ্লোক বা বিষয়ের অবতারণা করা হয়।
আদালত পর্যবেক্ষণ করে বলেন, আসামিরা এই প্রাণীর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত থাকা সত্ত্বেও নির্মমভাবে গো-হত্যা করেছে এবং মাংস বিক্রির চেষ্টা চালিয়েছে।রায়ে উল্লেখ করা হয়, গো-হত্যার মতো অপরাধে জড়িত আসামিদের যদি আইনানুগ শাস্তি দেওয়া না হয়, তবে কালের গর্ভে হিন্দুদের ‘গো-মাতা’ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
আদালত জোর দিয়ে বলেন, গো-হত্যার মতো ঘটনায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত এবং পর্যাপ্ত প্রমাণাদির ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।পরিশেষে, আদালত ওই তিনজনকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।