গজলডোবা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি ১০ হাজার পরিবার
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারি বৃষ্টি ও ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের ৪০টি গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে কিছুটা কমলেও ভাটিতে বেড়েছে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এদিকে, পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
সোমবার সকালে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় জানান, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের ৪০টি গেট খুলে দেওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার বিকেলে ব্যারাজের গেটগুলো খুলে দেওয়ার পর তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। তবে সোমবার বিকেলে পানি কমে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙনও দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো। গত ২৪ ঘণ্টায় লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় ১৩টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
হঠাৎ তিস্তার পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। পানি বৃদ্ধির ফলে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, নিজ শেখ সুন্দর, বাঘেরচর, সিঙ্গীমারী, ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি এবং কালীগঞ্জ উপজেলার শৈলমারী, চর বৈরাতী, রুদ্রেশ্বর, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, গোবর্ধন ও স্পারবাঁধ এলাকার চরাঞ্চলের বাদামক্ষেত, আমনের বীজতলা, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
কালীগঞ্জ উপজেলার কাশীরাম এলাকার বাদামচাষি লোকমান মিয়া জানান, তিস্তার চরে ৭০ শতক জমি লিজ নিয়ে তিনি চিনাবাদাম চাষ করেছেন। কয়েকদিন ধরে জমিতে পানি জমে থাকায় বাদামে পচন ধরেছে এবং গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষকরা জানান, রাতে পানি কমলেও সকালে আবার বাড়ছে। পানির এ ওঠানামায় তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। চলতি মৌসুমে আমন আবাদের জন্য প্রস্তুত করা অনেক বীজতলা পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রয়োজন হতে পারে।
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল হক বলেন, রবিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি আরও বাড়ছে। শুনছি ভারতও পানি ছেড়ে দিয়েছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে চরাঞ্চলের ধানের চারা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
তিস্তার চর রাজপুর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। গবাদিপশু ও সন্তানদের নিয়ে চরম বিপাকে আছি।
চর বালাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেন্টু মিয়া বলেন, গত দুই দিন ধরে পানিবন্দী হয়ে আছি। চেয়ারম্যান-মেম্বার কেউ কোনো খোঁজখবর নেননি।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, তিস্তার চরাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। চেয়ারম্যানদের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা পেলেই শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, তিস্তার পানি কখনো বিপৎসীমার ওপরে, আবার কখনো নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।