এইচএসসি প্রশ্নপত্র বিতর্কে নতুন মোড়, ব্যাখ্যাপত্র ঘিরে সমালোচনায় নাইক্ষ্যংছড়ি কলেজ
![]()
নিউজ ডেস্ক
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির হাজী এম. এ. কালাম সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক এখনো থামেনি। এবার কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ব্যাখ্যাপত্রকে কেন্দ্র করে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন না করে ব্যাখ্যাপত্রের মাধ্যমে অভিযোগকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
গত বুধবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কলেজ কেন্দ্রের কয়েকটি কক্ষে ভুলবশত ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি বুঝতে না পেরে কয়েকজন পরীক্ষার্থী ওই প্রশ্নপত্রেই উত্তর লেখা শুরু করেন। কিছু সময় পর ভুলটি ধরা পড়লে পরীক্ষা কেন্দ্রে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
এরই মধ্যে শনিবার (৫ জুলাই) কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাফর আলম স্বাক্ষরিত একটি ব্যাখ্যাপত্র প্রকাশ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তবে লিখিত অভিযোগ করেছেন মাত্র চারজন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র বিতরণে ইচ্ছাকৃত কোনো অনিয়ম হয়নি বলেও ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়।
তবে ব্যাখ্যাপত্র প্রকাশের পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র বিতরণে ভুলের মতো গুরুতর ঘটনার দায় স্বীকার করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে অভিযোগের সংখ্যা উল্লেখ করে ঘটনাটির গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের মতে, লিখিত অভিযোগকারীর সংখ্যা যাই হোক না কেন, ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনাটি নিজেই একটি গুরুতর প্রশাসনিক ব্যর্থতা, যা পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলও মনে করছে, বিষয়টি নিয়ে পাল্টাপাল্টি ব্যাখ্যার পরিবর্তে শিক্ষা বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে কীভাবে ভুল প্রশ্নপত্র পরীক্ষার কক্ষে পৌঁছালো, কার দায়িত্বে অবহেলা ছিল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, পাবলিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র বিতরণে সামান্য অসাবধানতাও হাজারো পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরীক্ষা পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর তদারকি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
প্রসঙ্গত, প্রশ্নপত্র বিতরণে ভুলের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ব্যাখ্যাপত্র প্রকাশের পর সেই বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ায় এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয়দের।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।