টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাঙামাটি, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৭০০ মানুষ; সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাঙামাটি, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৭০০ মানুষ; সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাঙামাটি, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৭০০ মানুষ; সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে অব্যাহত বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে পাহাড়ধস ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার বিভিন্ন সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটিতে প্রস্তুত রাখা ২১২টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ইতোমধ্যে ৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৭০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে। দুর্গত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাঙামাটি, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৭০০ মানুষ; সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত

পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অন্যদিকে মহালছড়ি এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রাঙামাটির সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের কারণে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

রাঙামাটি শহরের লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায়, সেখানে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে খাবার পানি ও শিশু খাদ্যের সংকটের অভিযোগ রয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাঙামাটি, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৭০০ মানুষ; সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা জসিম উদ্দিন বলেন, “গতকাল সকাল থেকে এখানে আছি। পাহাড়ধসে আমাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুপুর ও রাতে ভাত এবং সকালে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।”

আরেক আশ্রয়প্রার্থী তাসলিমা আক্তার বলেন, “আমাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও ছোট শিশুদের জন্য আলাদা কোনো খাবার নেই। বাজার থেকে কেক ও বিস্কুট কিনে খাওয়াতে হচ্ছে। বাসায় থাকলে খিচুড়িসহ পুষ্টিকর খাবার রান্না করা যেত, এখানে সেটা সম্ভব হচ্ছে না।”

মাবিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, “সকালে দীর্ঘ সময় খাবার পানির সংকট ছিল। বিদ্যুৎ না থাকলে পানির সরবরাহও ব্যাহত হয়।”

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকায় সড়ক ও কয়েকটি বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সেখানে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাঙামাটি, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৭০০ মানুষ; সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত

রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বলেন, দুর্যোগ পরিস্থিতিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য রান্না করা খাবার প্রস্তুত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা সবাইকে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে শিশুদের জন্য বিস্কুটসহ অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে। খাবার পানির কোনো সংকট নেই, কোথাও সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নের কিছু এলাকা এখনো পানিবন্দি রয়েছে। সেখানকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসতে প্রশাসন কাজ করছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত সবাইকে নিয়মিত রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *