গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত এগিয়ে আসবে বলে আশা ঢাকার

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত এগিয়ে আসবে বলে আশা ঢাকার

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত এগিয়ে আসবে বলে আশা ঢাকার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়টি ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে।

চুক্তি নবায়নের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয় বিষয়টি ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে। আমি আশা করি, ভারত এর গুরুত্ব বুঝবে এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে আসবে।’

চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের আগে এটি অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের সম্পৃক্ত করে সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা ও সংস্কার করা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

তাদের মতে, যথাযথভাবে পানি ভাগাভাগি না হলে বাংলাদেশ ঝুঁকির মুখে পড়বে।

কর্মকর্তারা বলেছেন, নতুন কোনো পানি বণ্টন চুক্তি ছাড়া বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্যপ্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে জলবায়ুজনিত ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছরের জন্য গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সে হিসাবে চলতি বছরই এ চুক্তির শেষ বছর।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গাসহ মোট ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে।

এ-সংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) নামে একটি দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা রয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ থাকায়, ন্যায্য ও জলবায়ু-সহনশীল উপায়ে গঙ্গার পানি বণ্টনের ব্যবস্থা করা এই নতুন সম্পর্কের অন্যতম পরীক্ষা হবে।

ভারতে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার তারিক এ. করিম বলেছেন, ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি প্রমাণ করেছে যে স্পর্শকাতর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্ভব।

তিনি বলেন, তবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। চুক্তিটির নবায়নের মাধ্যমে বোঝা যাবে, এই অঞ্চল পরিবর্তিত নদীপ্রবাহ ও জলবায়ু বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুরোনো চুক্তিগুলোকে নবায়ন করতে পারবে কি না।

সম্প্রতি এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর এ অঞ্চলে পানি, খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু সহনশীলতা—এসবই আঞ্চলিক জনস্বার্থের বিষয়। কোনো দেশ একা এগুলো নিশ্চিত করতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তাই দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে সহযোগিতা জোরদারের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে।

তার মতে, এ অঞ্চলে যৌথ নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়ন, যৌথ গবেষণা এবং আঞ্চলিক পরিবেশগত নিরাপত্তা নিয়ে সংলাপের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সহযোগিতার জন্য কোনো রাষ্ট্রকে তার সার্বভৌমত্ব ছেড়ে দিতে হবে না। বরং জলবায়ু সংকটের সময়ে সহযোগিতার মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী হয়—এ বিষয়টি স্বীকার করতে হবে।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক শাহাব এনাম খান সম্প্রতি ইউএনবিকে বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে অনেক প্রস্তুতি নিতে হবে এবং তথ্য বিনিময় হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১৯৯৬ সালের পরিস্থিতি আর ২০২৬ সালের পরিস্থিতি এক নয়। বিষয়টিকে শুধু প্রকৌশল বা কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যাবে না। পরিকল্পনায় অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *