কমলগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে বন্যা, বিএসএফের আপত্তিতে হচ্ছে না বাঁধ সংস্কার
![]()
নিউজ ডেস্ক
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের মোকাবিলা গ্রামে ধলই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই দিনের টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ইসলামপুর, আদমপুর ও আলীনগর ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ এবং কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টায় ধলই নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এলাকায় ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ইসলামপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কোথাও কোমর সমান পানি জমে রয়েছে। বহু পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। অন্যদিকে, কৃষিজমিতে ৪ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত পানি জমে থাকায় আউশ ধান ও বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, বর্তমানে মাঠে তেমন ফসল না থাকলেও আউশ ধান ও কিছু সবজিক্ষেতসহ প্রায় ১০০ হেক্টর কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, ধলই নদীর লংগুরপার ও কুমড়াকাপন এলাকার আরও দুটি প্রতিরক্ষা বাঁধ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এসব বাঁধও ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা প্রদান করা হবে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেন, ইসলামপুর ইউনিয়নের মোকাবিলা এলাকার ধলই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের সংস্কারকাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। সীমান্তবর্তী এলাকাটিতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আপত্তির কারণে বাঁধের কাজ শেষ করা যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে শ্রীমঙ্গল ৪৬ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, মোকাবিলা গ্রামের প্রতিরক্ষা বাঁধটি নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড চাইলে একতরফাভাবে সেখানে কাজ করতে পারে না। এ ধরনের সংস্কারকাজ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ভারতের সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘পানি শক্তি’-এর মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় প্রয়োজন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, একইভাবে ভারতের বিএসএফ বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ছাড়া নো-ম্যানস ল্যান্ডে কোনো ধরনের নির্মাণ বা সংস্কারকাজ পরিচালনা করতে পারে না।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তবর্তী এসব প্রতিরক্ষা বাঁধ দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সংস্কার করা না হলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের বন্যা ও দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।