রাজস্থলীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর জরুরি উদ্যোগ, স্বস্তি ফিরছে জনমনে

রাজস্থলীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর জরুরি উদ্যোগ, স্বস্তি ফিরছে জনমনে

রাজস্থলীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর জরুরি উদ্যোগ, স্বস্তি ফিরছে জনমনে
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাপ্তাই জোন। সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকা ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু হওয়ায় প্লাবিত এলাকার শতাধিক পরিবারের দুর্ভোগ কমতে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অবিরাম বর্ষণে বাঙ্গালহালিয়া বাজার, বাজারসংলগ্ন ডাকবাংলা মধ্যমপাড়া, দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের পেছনের এলাকা এবং আশপাশের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পরিবারের বসতঘর ও উঠানে হাঁটুসমান পানি জমে দীর্ঘ সময় ধরে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কাপ্তাই জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল কাদির শুভ-এর নির্দেশনায় বাঙ্গালহালিয়া সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো. এস. আরেফিন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদোমং মারমা, ইউপি সদস্য শিমুল দাস, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য বাপ্পী দেব, বাজার কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শামসুল আলমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পরিদর্শন শেষে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বুলডোজার এনে বাজার ও আশপাশের দীর্ঘদিনের ভরাট হয়ে থাকা ড্রেন পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করা হয়। এতে জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে যেতে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

মেজর মো. এস. আরেফিন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জনদুর্ভোগ লাঘবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা, চিকিৎসাসেবা, উদ্ধার কার্যক্রম এবং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়রা জানান, ডাকবাংলা পাড়ার ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভরাট হয়ে থাকায় বাঙ্গালহালিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল। সেনাবাহিনীর দ্রুত উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের পথ সচল হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

এদিকে টানা বর্ষণ ও সম্ভাব্য পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করছে। উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে মোট নয়টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নবযোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইউসুফ হাসান আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানান, বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক ও কার্যকর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ রূপ নিত। তারা বাঙ্গালহালিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নেরও দাবি জানিয়েছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *