জেলা পরিষদের সাবেক কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, চেয়ারম্যান নিয়োগ না দেওয়ার আবেদন

জেলা পরিষদের সাবেক কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, চেয়ারম্যান নিয়োগ না দেওয়ার আবেদন

জেলা পরিষদের সাবেক কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, চেয়ারম্যান নিয়োগ না দেওয়ার আবেদন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক হিসাবরক্ষক (অ্যাকাউন্টেন্ট) ম্রাসাথোয়াই মারমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ তুলে তাকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার সম্পদের উৎস তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর পাঠানো একটি লিখিত আবেদনে নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের একনিষ্ঠ কর্মী পরিচয় দিয়ে আবেদনকারী মো. মনির আহম্মদ মনু দাবি করেন, ম্রাসাথোয়াই মারমাকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আবেদনে তিনি এ নিয়োগের বিরোধিতা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

এমন দুটি অভিযোগের কপি হাতে এসেছে সাউথইস্ট এশিয়া জার্নালের হাতে।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ম্রাসাথোয়াই মারমা জেলা পরিষদের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘদিনে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। আবেদনকারীর দাবি, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ রয়েছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়েও এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আবেদনে আরও বলা হয়, ম্রাসাথোয়াই মারমা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উপদেষ্টা। এছাড়া সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে তা বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলেও আবেদনকারী দাবি করেন।

এর আগে গুইমারা উপজেলার ৫১ নম্বর ধুরুং এলাকার বাসিন্দা আনু মারমা গত বছরের ১০ জুলাই এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছেও ম্রাসাথোয়াই মারমার বিরুদ্ধে পৃথক একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগকারী আনু মারমা দাবি করেন, একজন তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও ম্রাসাথোয়াই মারমা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ম্রাসাথোয়াই মারমা এক সময় ভূমিহীন থাকলেও বর্তমানে শত শত একর জমির মালিক। এর মধ্যে পানছড়ি উপজেলার ৪ নম্বর লতিবান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৩৫০ একর জমির ওপর রাবার বাগান ও ফলজ বাগান রয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এছাড়া পানছড়ি কংচাইরী পাড়া এলাকার মায়াবিনী লেকে প্রায় ৭০ একর জমি, খাগড়াছড়ি জেলা সদরের নিউজিল্যান্ড রোডে ১০ শতক জমি, গুইমারা উপজেলার যৌথখামার এলাকায় প্রায় ৫ একর জমি এবং জেলা সদরের স্বনির্ভর বাজার এলাকায় একটি প্লট থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী দাবি করেন, নিজের নামে সম্পদ অর্জন না করে ম্রাসাথোয়াই মারমা তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনের নামে এসব সম্পদ নিবন্ধন করেছেন। তার স্ত্রী চিংস্রাউ মারমা একজন সাধারণ গৃহবধূ হলেও তার নামে খাগড়াছড়ি বাজারের য়ংড বৌদ্ধ বিহারের সামনে ছয়তলা ‘হিল হেভেন’ নামের একটি হোটেল রয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এছাড়া গোলাবাড়ি এলাকায় যে ছয়তলা ভবনে ম্রাসাথোয়াই মারমা পরিবারসহ বসবাস করেন, সেই ভবনের মালিকানাও তার স্ত্রী চিংস্রাউ মারমার নামে নিবন্ধিত রয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব সম্পত্তি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ২৬২ নম্বর গোলাবাড়ি মৌজায় অবস্থিত। সংশ্লিষ্ট খতিয়ান নম্বর ৩৯ ও ৭৪ এবং দাগ নম্বর ২৭৭৮, ২৬০০ ও ২৬৪৬ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী আনু মারমা বলেন, একজন তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীর পক্ষে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া স্বাভাবিক নয়। তাই ম্রাসাথোয়াই মারমার অর্জিত সম্পদের উৎস তদন্ত করে তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

একটি সূত্র বলছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে মারমা সম্প্রদায়ের লোকজনকে জেলা পরিষদে চাকরি পাইয়ে দেবার প্রলোভন দেখিয়ে বহু যুবকের কাছ থেকে লাখ লাখ ঘুষ নিয়েছেন এই ম্রাসাথোয়াই মারমা। কিছুদিন আগে এসব বিষয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা পরিলক্ষিত হয়েছিলো।

এ বিষয়ে ম্রাসাথোয়াই মারমার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন বা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও এ অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed