অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দিল সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ, ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে মহালছড়ি উপজেলার নার্সারী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও মুদি ব্যবসায়ী মো. তৌহিদুল ইসলামের বসতঘরে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকায় আগুন দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ঘর ও দোকানের মালামাল গ্রাস করে।

স্থানীয়রা ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর আগেই ঘরের আসবাবপত্র, দোকানের মালামাল ও প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রীর বড় অংশ পুড়ে যায়। আগুন নেভানোর সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি আহত হন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মহালছড়ি জোনের সেনাসদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরিদর্শন করেন এবং তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেন।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়, যাতে পরিবারটি প্রাথমিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে।
এছাড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নিয়ে আহত হওয়া স্থানীয়দের জন্য ঘটনাস্থলেই একটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। সেনাবাহিনীর চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টিম আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করেন। গুরুতর কোনো আহত না থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করায় স্থানীয়রা সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মহালছড়ি জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা যেকোনো দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দায়িত্ব ও অঙ্গীকারের অংশ। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর সেনাবাহিনীর সদস্যরা খুব দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাৎক্ষণিক ত্রাণ, নগদ অর্থ ও চিকিৎসা সহায়তা পরিবারটির দুর্দিনে বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করবে বলে তারা মনে করেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।