পার্বত্য জেলা পরিষদ ও উন্নয়ন বোর্ড কার্যকর হলে পর্যটন শিল্প আরও বিকশিত হবে- দীপেন দেওয়ান

পার্বত্য জেলা পরিষদ ও উন্নয়ন বোর্ড কার্যকর হলে পর্যটন শিল্প আরও বিকশিত হবে- দীপেন দেওয়ান

পার্বত্য জেলা পরিষদ ও উন্নয়ন বোর্ড কার্যকর হলে পর্যটন শিল্প আরও বিকশিত হবে- দীপেন দেওয়ান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন শিল্পের টেকসই বিকাশে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করলে পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন শিল্প আরও বিকশিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

রোববার (১৯ জুলাই) সকালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে ‘সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল, পরিবেশ ও নারীবান্ধব পর্যটন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উইমেন রিসোর্স নেটওয়ার্কের উদ্যোগে এবং তারুম ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের Strengthening Marginalised Communities for Inclusive Development in Bangladesh (SMCD) প্রকল্পের সহযোগিতায় এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে রাঙামাটির বিভিন্ন হোটেল, মোটেল, কটেজ ও রিসোর্ট মালিক, ট্যুর গাইড, বোট মালিক, প্রথাগত নেতৃত্ব, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি অংশ নেন।

দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকায় পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য যৌথভাবে পরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ করা হলে এ অঞ্চলের চেহারা পাল্টে যাবে।

তিনি আরও বলেন, পর্যটন শিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ যত বাড়বে, এ খাত তত সমৃদ্ধ হবে। তবে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত নারী-বন্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নারী ট্যুর গাইড, উদ্যোক্তা এবং পর্যটনকর্মীদের সংখ্যা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দীপেন দেওয়ান বলেন, পর্যটনে এগিয়ে যেতে হলে পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে এবং সবার মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি করতে হবে। মেয়েদের সাহসের সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সরকার পর্যটন খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচনা করছে। তাই নারী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

উইমেন রিসোর্স নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ রাঙামাটি রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. খাইরুল আলম।

এছাড়া মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন রাইন্যাটুগুন ইকো রিসোর্টের ললিত চন্দ্র চাকমা, জুম কিং রিসোর্টের তনয় দেওয়ান, নুর জাহান বেগম পারুলসহ পর্যটন খাতের বিভিন্ন উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ, সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করেই পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে নারী-বন্ধব পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। বিশেষ করে প্রান্তিক নারীদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতে তাদের অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed