আলীকদমে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে সবুজ ভবিষ্যৎ গড়তে সেনাবাহিনীর অনন্য উদ্যোগ, ২০০ চারা বিতরণ

আলীকদমে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে সবুজ ভবিষ্যৎ গড়তে সেনাবাহিনীর অনন্য উদ্যোগ, ২০০ চারা বিতরণ

আলীকদমে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে সবুজ ভবিষ্যৎ গড়তে সেনাবাহিনীর অনন্য উদ্যোগ, ২০০ চারা বিতরণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবানের দুর্গম পার্বত্য জনপদে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিক অবদানের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর আলীকদম জোনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

রোববার (২ আগস্ট) আলীকদম উপজেলার সাথীরাম ত্রিপুরা পাড়ায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, পার্বত্যাঞ্চলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

আলীকদমে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে সবুজ ভবিষ্যৎ গড়তে সেনাবাহিনীর অনন্য উদ্যোগ, ২০০ চারা বিতরণ

বর্তমানে পাহাড়ি অঞ্চলে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, ভূমিক্ষয়, বনাঞ্চল সংকোচন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। এর ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এমন বাস্তবতায় পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার লক্ষ্যেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ সময়োপযোগী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান আশিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ১৭ ইসিবি-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আল হাসান।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধান অতিথি নিজ হাতে বৃক্ষরোপণ করেন এবং স্থানীয় জনগণের মাঝে মোট ২০০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন। শুধু চারা বিতরণেই সীমাবদ্ধ না থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করা হয় এবং সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানানো হয়। স্থানীয় জনগণও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন, যা পুরো আয়োজনকে একটি গণমুখী পরিবেশ সংরক্ষণ উদ্যোগে পরিণত করে।

আলীকদমে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে সবুজ ভবিষ্যৎ গড়তে সেনাবাহিনীর অনন্য উদ্যোগ, ২০০ চারা বিতরণ

এ সময় সাথীরাম ত্রিপুরা পাড়ার সার্বিক কল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সহায়তার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক অনুদানও প্রদান করা হয়। স্থানীয়রা এ মানবিক সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান আশিক বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের নৈতিক অঙ্গীকার। পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, ভূমিক্ষয় প্রতিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমেও সমানভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষার এই দায়িত্ব কেবল রাষ্ট্র বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের নয়; বরং সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

আয়োজকরা জানান, এ কর্মসূচির মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলে সবুজায়ন সম্প্রসারণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ভূমিক্ষয় রোধ, পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি জনসচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আলীকদমে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে সবুজ ভবিষ্যৎ গড়তে সেনাবাহিনীর অনন্য উদ্যোগ, ২০০ চারা বিতরণ

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। তারা বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণে সেনাবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম স্থানীয় মানুষের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা আরও সুদৃঢ় করেছে। বিশেষ করে পার্বত্যাঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের এই উদ্যোগ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি নিরাপদ, সুন্দর ও টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed