বান্দরবানের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত: গর্ভবতী মা ও শিশু সুরক্ষায় সেনাবাহিনীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আবারও মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নিরাপদ মাতৃত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের উদ্যোগে শুরু হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
রোববার (২ আগস্ট) বান্দরবান সেনানিবাসে ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, সদর দপ্তর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
প্রশিক্ষণে পার্বত্যাঞ্চলের ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ২০ জন নারী প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মূল জনপদ থেকে বিচ্ছিন্ন প্রত্যন্ত পাড়াগুলোতে নিয়মিত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক এলাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে সময়মতো হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে অনেক সাধারণ রোগও জটিল আকার ধারণ করে।
বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের নিরাপদ মাতৃত্ব, গর্ভকালীন পরিচর্যা, প্রসবকালীন ঝুঁকি শনাক্তকরণ, নিরাপদ প্রসব এবং নবজাতকের প্রাথমিক পরিচর্যার ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বান্দরবান সেনা রিজিয়ন প্রতিটি প্রত্যন্ত পাড়া থেকে শিক্ষিত ও আগ্রহী নারী নির্বাচন করে তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের গর্ভকালীন পরিচর্যা, মা ও শিশুর পুষ্টি, নিরাপদ মাতৃত্ব, নবজাতকের প্রাথমিক পরিচর্যা, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে স্থানীয় গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সহযোগিতা করবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং মা ও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়ে আনতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করছে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া স্থানীয় নারীরা জানান, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা নিজেদের পরিবারের পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা করতে পারবেন। এতে দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং জরুরি মুহূর্তে অনেক মূল্যবান প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ। তারা সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনী পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।