জাতিসংঘে আবারও বাংলাদেশের গৌরব, সম্মানজনক স্বীকৃতি পেল বিমান বাহিনীর BANUAU-22
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) মোতায়েন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইউটিলিটি এভিয়েশন ইউনিট (BANUAU-22)-কে সম্মানজনক জাতিসংঘ মেডেল এবং ‘ফোর্স কমান্ডারস লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন সার্টিফিকেট’ প্রদান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের ধারাবাহিক সাফল্যের আরও একটি গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে এ অর্জন বিবেচিত হচ্ছে।
গত ২৩ জুলাই ২০২৬ ডিআর কঙ্গোতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন United Nations Organization Stabilization Mission in the Democratic Republic of the Congo (MONUSCO)-এর আওতায় যথাযোগ্য সামরিক মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ মেডেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন MONUSCO-এর ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল উলিসেস ডি মেসকুইতা গোমেস (ব্রাজিল)। তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও কৃতিত্বপূর্ণ সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ BANUAU-22-এর সদস্যদের হাতে মর্যাদাপূর্ণ United Nations Medal তুলে দেন।
এ সময় ফোর্স কমান্ডার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইউটিলিটি এভিয়েশন ইউনিটকে ডিআর কঙ্গোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সামরিক শৃঙ্খলা, অপারেশনাল উৎকর্ষতা এবং পেশাগত নিষ্ঠার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশের এই কন্টিনজেন্টের সফল নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে BANUAU-22-এর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার এয়ার কমডোর মো. এনামুল করিম-এর নেতৃত্বে অসাধারণ পেশাদারিত্ব, কর্মদক্ষতা এবং সম্পূর্ণ দুর্ঘটনামুক্ত অপারেশনাল রেকর্ড বজায় রাখার জন্য পুরো ইউনিটকে ‘Force Commander’s Letter of Appreciation Certificate’ প্রদান করা হয়।

শুধু ইউনিটই নয়, মিশনে অসামান্য কর্মদক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং অপারেশনাল লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য BANUAU-22-এর তিনজন সদস্যকেও পৃথকভাবে ‘Force Commander’s Letter of Appreciation Certificate’ প্রদান করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উচ্চমানের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও অপারেশনাল সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহন করে।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইউটিলিটি এভিয়েশন ইউনিট জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় ডিআর কঙ্গোতে ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। গত ২২ বছরে ইউনিটটির ৬ হাজারেরও বেশি সদস্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে Medical Evacuation (MEDEVAC), Casualty Evacuation (CASEVAC), Cargo Re-Supply, Troops Insertion and Extraction এবং উচ্চপর্যায়ের (VIP) প্রতিনিধিদলের হেলিকপ্টার পরিবহনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন পরিচালনা করে আসছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত দুই দশকেরও বেশি সময়ে BANUAU ৩৯ হাজার ঘণ্টার বেশি নিরাপদ উড্ডয়ন সম্পন্ন করে সম্পূর্ণ দুর্ঘটনামুক্ত অপারেশনাল রেকর্ড বজায় রেখেছে, যা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ইতিহাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য এক অনন্য সাফল্য।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এ ধারাবাহিক সাফল্য শুধু দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতারই প্রতিফলন নয়, বরং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ভূমিকা, পেশাদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।