ভারতে মুসলিমদের নিয়ে বিজেপি নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, তীব্র বিতর্ক

ভারতে মুসলিমদের নিয়ে বিজেপি নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, তীব্র বিতর্ক

ভারতে মুসলিমদের নিয়ে বিজেপি নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, তীব্র বিতর্ক
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ভারতে উৎসবের মৌসুমে মুসলিম সম্প্রদায় এবং নারীদের লক্ষ্য করে ক্ষমতাসীন বিজেপি বিধায়কের উসকানিমূলক ও কুরুচিকর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এবং এআইএমআইএম এই ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে।

​ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের রাজধানী ভোপাল শহরের ‘হুজুর’ বিধানসভা এলাকায়। ভারতের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় উৎসব ‘গরবা’কে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। ‘গরবা’ প্রধানত গুজরাট ও মধ্যভারতের একটি ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য, যা শারদীয় দুর্গা বা ‘নবরাত্রি’ উৎসবের ৯ দিন ধরে রাতে মহাসমারোহে উদযাপিত হয়। হাজার হাজার তরুণ-তরুণী ও সাধারণ মানুষ এই উৎসবে একসঙ্গে অংশ নেন।

​সম্প্রতি এক জনসভায় ভোপালের বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর শর্মা কথিত ‘লাভ জিহাদ’ (হিন্দু নারীদের ধর্মান্তরিত করার কাল্পনিক অভিযোগ) অজুহাতে বলেন, “মুসলিম যুবকদের একা একা গরবা অনুষ্ঠানে আসা উচিত নয়। তারা যদি আসতেই চায়, তবে নিজেদের পরিবারের বোন ও মেয়েদেরও সঙ্গে নিয়ে আসুক।” এর পরেই সহাস্য মুখে তিনি যোগ করেন, “আমাদের ছেলেরাও প্রস্তুত রয়েছে।” বিধায়কের এই কথার পরেই সভাস্থলে থাকা তাঁর সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়ে।

​বিজেপি বিধায়কের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ভারতের রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে চরম ধর্মীয় মেরুকরণ সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি কুরুচিকর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে।

​রাজনৈতিক প্রতিবাদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও নেটিজেনরা বিধায়কের এই বক্তব্যকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তাঁদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে নারীদের সম্মানকে কার্যত সামাজিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এক কুরুচিকর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা চরম লিঙ্গবৈষম্যমূলক ও অবমাননাকর।

ভোপাল সেন্ট্রালের কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “রামেশ্বর শর্মার এই মন্তব্য অত্যন্ত নোংরা ও জঘন্য। আমি কেবল এটুকুই বলব—নিজের স্বভাব শুধরে নিন। মুখ থেকে এমন নোংরা কথা উগড়ানো বন্ধ করুন। প্রথমত, সাধারণ মুসলমানেরা গরবা অনুষ্ঠানে যায় না, গরবার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। যে ধরণের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা চরম আপত্তিকর।”

অন্যদিকে, এআইএমআইএম-এর মধ্যপ্রদেশ সভাপতি মহসিন আলী খান তীব্র আক্রমণ চালিয়ে বিধায়ককে দেশের সংবিধান পড়ার পরামর্শ দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই ধরণের উসকানিমূলক বক্তব্য দেশ ভাগ করার চক্রান্ত। রামেশ্বর শর্মা যদি মুসলমানদের নিজেদের বোন ও মেয়েদের গরবায় আনার কথা বলেন, তবে বিজেপির নিজস্ব মুসলিম নেতারা—যেমন শাহনেওয়াজ হোসেন বা সৈয়দ জাফর ইসলামরা কি তাঁদের নিজেদের বোন-মেয়েদের গরবা অনুষ্ঠানে নিয়ে যাবেন?”

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।