এই দিনে পালাতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা, অবসান হয় দেড় দশকের শাসনের

এই দিনে পালাতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা, অবসান হয় দেড় দশকের শাসনের

ই দিনে পালাতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা, অবসান হয় দেড় দশকের শাসনের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনীতির ঐতিহাসিক দিন। কয়েক সপ্তাহের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণবিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় এদিন নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে ক্ষমতার। পতন হয় দেড় দশকের সরকারের। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত রূপ নেয় সরকারবিরোধী অভ্যুত্থানে। ইতিহাসে প্রথম পালাতে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী।

স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের স্বাক্ষী ২০২৪; সরকারি চাকরিতে কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে সেবছর জুনে রাজপথে নামে ছাত্র জনতা।

কোট সংস্কার আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন তৎকালীন সরকার প্রধানের কটূক্তি আগুনে ঘি ঢালে। আন্দোলনে যোগ করে নতুন মাত্রা। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদের ঝড়।

আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় সর্বস্তরের মানুষ। ছাত্রদের সাথে একাত্মতা জানিয়ে তারাও নামে রাজপথে। শুরু হয় বাংলা ব্লকেড।

জনবিক্ষোভ ঠেকাতে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। নির্বিচারে গুলি চালায় অস্ত্রধারী পেটোয়া বাহিনী। শহীদ হন আবু সাঈদ, ফাইয়াজ, ওয়াসিম, মুগ্ধসহ জানা-অজানা অনেক তরুণ।

১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে পরদিন ব্লকরেইড দিয়ে চলে গণগ্রেপ্তার। ছয় সমন্বয়ককে তুলে নিয়ে যায় ডিবি। পাল্টা হিসেবে আসে মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচির ঘোষণা।

জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ হতে থাকে মৃত্যুর মিছিল। প্রতিবাদে ঘোষণা আসে অসহযোগ আন্দোলনের।

৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সমাবেশে স্বৈরাচার পতনের এক দফা ঘোষণা করার পর আরো তীব্র হয় দমন পীড়ন। প্রাণঘাতী অস্ত্রের লাগামহীন ব্যবহারে বাড়তে থাকে হতাহত।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী দিন ৪ আগস্ট শহিদ হন শতাধিক। এ অবস্থায় হঠাৎই একদিন এগিয়ে আনা হয় মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি।

৫ আগস্ট রাজধানীর সব প্রবেশমুখে জনতার ঢল দেখে পালিয়ে যায় সরকারের পেটোয়া বাহিনী। যাত্রাবাড়ী এলাকায় নারকীয় গণহত্যা চালায় পুলিশ। সেদিন পুলিশের গুলিতে যাত্রাবাড়ীতে ৩০ জনেরও বেশি শহীদ হন বলে ধারণা করা হয়।

এক পর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে হেলিকপ্টারে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। ৩৬ দিনের আন্দোলনে ঝরে যায় সহস্ত্রাধিক প্রাণ, আর আহত ১৪ হাজারের বেশি।

স্বৈরাচার পতনের খবরে উল্লাসে মেতে ওঠে সারাদেশ। শুরু হয় বিজয় মিছিল। রাজপথে নেমে আসে সব শ্রেণীপেশার মানুষ। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে স্বপ্ন দেখে নতুন বাংলাদেশের।

ভোটার বিহীন নির্বাচন করে দীর্ঘদিন কুক্ষিগত করে রাখা জাতীয় সংসদেও ঢুকে পরে ছাত্র-জনতা। লাল সবুজ পতাকা ঘিরে দেখা দেয় অভাবনীয় দৃশ্য।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *