১০৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রাণ ফিরেছে কাপ্তাই হ্রদে, জেলেদের জালে নতুন স্বপ্ন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
দীর্ঘ ১০৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর মধ্যরাত থেকেই হ্রদের বিভিন্ন প্রান্তে জাল ফেলতে শুরু করেছেন জেলেরা। ভোর হতেই মাছভর্তি ট্রলারের আনাগোনা বেড়েছে রাঙামাটি বিএফডিসি ঘাটে। জেলেদের জাল ফেলা, ট্রলারের গুঞ্জন আর মাছের বেচাকেনায় মুখর হয়ে উঠেছে হ্রদপাড়ের জনপদ।
প্রায় ৭২৫ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত কাপ্তাই হ্রদে দীর্ঘ বিরতির পর মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় শুধু জেলেদের মধ্যেই নয়, মাছ ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট অন্য পেশাজীবীদের মধ্যেও ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। দীর্ঘদিনের বেকারত্ব কাটিয়ে আয়ের পথে ফেরার প্রত্যাশায় উচ্ছ্বসিত জেলেরা।
ভোর থেকেই রাঙামাটি বিএফডিসি ঘাটে একের পর এক মাছভর্তি ট্রলার এসে ভিড়তে থাকে। প্রথম দিনে চাপিলা ও কাচকি মাছের সরবরাহই বেশি দেখা গেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, হ্রদের পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বড় আকারের মাছের সরবরাহও বাড়তে পারে।
দীর্ঘদিন পর জলে জাল ফেলতে পেরে খুশি জেলে বাসু দাস। তিনি বলেন, বন্ধকালীন সময়ে বেকার সময় কাটাতে হয়েছে। এখন আবার মাছ শিকারে নামতে পেরে ভালো লাগছে। মাছ ধরা শুরু হওয়ায় পরিবারের খরচ চালানোর পাশাপাশি আয়-উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

মাছ ব্যবসায়ী মো. পান্না মিয়া বলেন, প্রথম দিনেই ভালো পরিমাণ মাছ এসেছে। তবে মাছের আকার কিছুটা ছোট এবং কার্পজাতীয় মাছের পরিমাণও কম। দিন যত যাবে, মাছের সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। এতে ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) সূত্রে জানা যায়, কার্পজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন, বংশবৃদ্ধি ও পোনা মাছের সুষম বৃদ্ধির সুযোগ দিতে ২০ এপ্রিল থেকে কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের মাছ আহরণ, বাজারজাতকরণ ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ ১০৫ দিনের এ নিষেধাজ্ঞার পর গত মধ্যরাত থেকে পুনরায় মাছ আহরণের অনুমতি দেওয়া হয়।
বিএফডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদ থেকে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হয়। এতে রেকর্ড ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়। এবার দীর্ঘ সময় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বৃদ্ধির সুযোগ পাওয়ায় আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছে বিএফডিসি।

রাঙামাটি বিএফডিসির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, দীর্ঘ ১০৫ দিন মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বৃদ্ধির সুযোগ দেওয়ার ফলে এবার এর সুফল পাওয়া যাবে। প্রথম দিনের মাছের সরবরাহ এবং জেলেদের মধ্যে যে উদ্দীপনা দেখা গেছে, তাতে এবার মাছ অবতরণ ও রাজস্ব আদায়ে অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন তিনি।
কাপ্তাই হ্রদ শুধু রাঙামাটির মৎস্যসম্পদের অন্যতম প্রধান উৎস নয়, এ অঞ্চলের অর্থনীতির সঙ্গেও এর সম্পর্ক গভীর। হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় গত সাড়ে তিন মাস জেলে, মাছ ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষকে আয়-রোজগারে সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় সেই স্থবিরতা কাটিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন গতি সঞ্চার হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে হ্রদের মৎস্যসম্পদ টিকিয়ে রাখতে নির্ধারিত নিয়ম মেনে মাছ আহরণ, পোনা ও মা মাছ সংরক্ষণ এবং অতিরিক্ত আহরণ বন্ধ রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিষেধাজ্ঞার সুফল ধরে রাখতে পারলে কাপ্তাই হ্রদ যেমন জেলেদের জীবিকার নিরাপদ ভিত্তি হয়ে উঠবে, তেমনি রাঙামাটির মৎস্য অর্থনীতিতেও আরও বড় অবদান রাখবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।