আসাম-অরুণাচল সীমান্তে গুলিতে আহত ১১, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের আসাম-অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের গুলিতে ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আসামের ধেমাজি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে গোগামুখ রাজস্ব সার্কেলের মিংমাং বাদাতি এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সশস্ত্র ও ইউনিফর্ম পরা একদল ব্যক্তি সেখানে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে গুলি চালায়।
আহত এক গ্রামবাসীর ভাষ্য, ঘটনার সময় প্রায় ১৮ জন স্থানীয় ব্যক্তি সেখানে কাজ করছিলেন। এ সময় ইউনিফর্ম পরা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি এসে ওই জমি দখলে নেওয়ার কথা বলতে থাকে। তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তারা গুলি চালায়। এ সময় আট থেকে নয়জন পালিয়ে গিয়ে নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হন বলে দাবি করেন তিনি।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন দুর্গেশ্বর পাটির, রোহিত দোলে, নাগরাজ দোলে, বিগ্নেশ্বর পাটির, পামে পেগু, সঞ্জয় তাইয়ুং, উৎপল দোলে ও জান দোলে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত অপর তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আহত ১১ জনকে প্রথমে গোগামুখ গ্রামীণ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তিনজনসহ সাতজনকে ধেমাজি সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তী সময়ে ডিব্রুগড়ের আসাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (এএমসিএইচ) পাঠানো হয়েছে।
মিংমাং বাদাতি এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, অরুণাচল প্রদেশের দিক থেকে আসা লোকজন দীর্ঘদিন ধরে আসামের ভূমি দখলের চেষ্টা করে আসছে। আহত এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, শুধু সাধারণ মানুষই নয়, অরুণাচল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ইউনিফর্ম পরে সেখানে এসে জমি দখলের চেষ্টা করেছেন এবং গুলি চালিয়েছেন।
তবে আসাম পুলিশ জানিয়েছে, এসব অভিযোগ এখনো যাচাই করা হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তকারী এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অরুণাচল প্রদেশ পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি), মুখ্যসচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অরুণাচল প্রদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
তবে মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাটিকে দুই রাজ্যের মধ্যকার বিরোধ হিসেবে না দেখে স্থানীয় জমি-সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, সামগ্রিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রয়েছে।
আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের মধ্যে ৮০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তের কয়েকটি অংশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে এবং জমি দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় স্থানীয় পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।