রামগড়ে এসএসসিতে ভরাডুবি, খাগড়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের কেউ পাস করেনি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার খাগড়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়ে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৬ জন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির ইতিহাসে এটিই প্রথম শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াবিল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর মোট ১৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে চলতি শিক্ষাবর্ষের ১০ জন এবং পূর্ববর্তী শিক্ষাবর্ষের ৬ জন পরীক্ষার্থী ছিল। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হয়নি।
সামগ্রিকভাবে রামগড় উপজেলার সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাদ্রাসা থেকে ৫১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২০৯ জন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাসের হার প্রায় ৩২ শতাংশ, আর মাদ্রাসায় পাসের হার ৯৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। উপজেলার সবচেয়ে কম ফল করেছে চৌধুরীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, যেখানে ৭৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৯ জন পাস করেছে। অন্যদিকে রামগড় গণিয়াতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ৫৬ জনের মধ্যে ৫২ জন উত্তীর্ণ হয়ে উপজেলার সেরা ফল করেছে।
শিক্ষা অফিস জানায়, বোর্ডের নিবন্ধনসংক্রান্ত কারণে খাগড়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চৌধুরীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয়। একইভাবে রামগড় আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থীরা বলিপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এবং নাকাপা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা রামগড় গণিয়াতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার অধীনে পরীক্ষা দেয়।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবু মুছা অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছর ধরে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের কারণে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর প্রতিবাদে গত বছর শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভও করেছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তবে খাগড়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশিদ আলম বলেন, শিক্ষকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। তাঁর দাবি, অনেক অভিভাবক সন্তানের পড়াশোনার বিষয়ে আন্তরিক নন এবং বিদ্যালয়ের ডাকা অভিভাবক সমাবেশেও উপস্থিত হন না। তিনি জানান, কয়েকজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকেও নিবন্ধন ফি দেওয়া হয়েছিল। তবে শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধে ঘাটতি রয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
খাগড়াবিল শিক্ষা উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ডা. মোস্তফা কামাল বলেন, ১৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, পারস্পরিক সহযোগিতার ঘাটতি এবং অভিভাবকদের পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এই ফলাফলের অন্যতম কারণ।
রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী শামীম বলেন, ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি জানান, বিদ্যালয়ে সমন্বয়জনিত সমস্যা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।