‘জরুরি পরিস্থিতিতে খাদ্য সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তিন পার্বত্য এলাকায় খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হবে’

‘জরুরি পরিস্থিতিতে খাদ্য সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তিন পার্বত্য এলাকায় খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হবে’

‘জরুরি পরিস্থিতিতে খাদ্য সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তিন পার্বত্য এলাকায় খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হবে’
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে খাদ্য সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তিন পার্বত্য জেলায় নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকার মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এবং নতুন গুদাম নির্মাণ সেই উদ্যোগেরই অংশ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সময় প্রতিকূল থাকে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম, ভূমিধস বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় খাদ্য পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

এ কারণে তিন পার্বত্য জেলায় নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে খাদ্য মজুত ও সরবরাহ আরও সহজ হবে এবং দুর্গম এলাকার মানুষ দ্রুত খাদ্য সহায়তা পাবেন।

তিনি জানান, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫৫ লাখ গ্রামীণ দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। তবে সরকার এটিকে শিক্ষার মানোন্নয়নের অংশ হিসেবেই দেখছে।

তিনি বলেন, অতীতে শুধু পাসের হার বাড়ানোর প্রবণতা ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার শিক্ষার প্রকৃত মান নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। শিক্ষামন্ত্রীও ফল প্রকাশের সময় একই বার্তা দিয়েছেন।

স্বাস্থ্যখাতের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সম্প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে কর্মঘণ্টার মধ্যে একজন চিকিৎসককে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এটি সরকারি চিকিৎসকদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা যে কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

সাম্প্রতিক একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রীদের ভোগান্তির প্রসঙ্গেও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, বিমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বিদেশে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে পাওয়া না যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে যন্ত্রাংশ পাঠাতে হয়েছে।

একই সঙ্গে ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত কারণে যাত্রীরা বিমানবন্দরের বাইরে যেতে না পারায় অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার হন।

এ ঘটনার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া গণ-অভ্যুত্থান জাদুঘরে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। উদ্বোধনের প্রথম দিকে দর্শনার্থীর অতিরিক্ত চাপের কারণে কিছু ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা দেখা দিলেও তা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের আওতাধীন দেশের ২২টি পরমাণু চিকিৎসা ইনস্টিটিউট ও ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের মাধ্যমে ৮২ হাজার ৩৭৬ জন রোগীকে পিইটি-সিটি স্ক্যান, থাইরয়েড স্ক্যান, রেডিওথেরাপি, বোন মিনারেল ডেনসিটি (বিএমডি) পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।

একই সঙ্গে আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যের তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার আওতায় ২ হাজার ৪১টি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীসহ দেশের ১৩টি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মাঠ সংরক্ষণ, দখলমুক্ত করা এবং নতুন মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনগুলোর প্রতিনিধি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নগরায়ণের কারণে অনেক খেলার মাঠ হারিয়ে গেছে বা দখল হয়ে গেছে।

সরকার এসব মাঠ পুনরুদ্ধার এবং যেখানে প্রয়োজন নতুন মাঠ নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইস নির্ভরতা কমিয়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা এবং শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করে একটি মানবিক ও টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *