অবকাঠামোগত দুর্বলতা পেছনে ফেলে মহালছড়িতে সেরা মাইসছড়ি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

অবকাঠামোগত দুর্বলতা পেছনে ফেলে মহালছড়িতে সেরা মাইসছড়ি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

অবকাঠামোগত দুর্বলতা পেছনে ফেলে মহালছড়িতে সেরা মাইসছড়ি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই, নেই আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব। সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়েই প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে মাইসছড়ি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। নানা সংকটের মধ্যেও ধারাবাহিক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে এবারও খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মহালছড়ি উপজেলার ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাইসছড়ি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫ জন। পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার পর মাত্র দুইবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েই দুইবারই উপজেলা পর্যায়ে সেরা ফলাফল অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ সাফল্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাবনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষকদের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতাই এই সাফল্যের মূল শক্তি। তবে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট কাটিয়ে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ফলাফল আরও ভালো হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নে ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন মহালছড়ি জোনের অধীনে বিজিতলা সাবজোনের কমান্ডার মেজর আলমগীর কবির এবং স্থানীয় প্রতিনিধি ও মাইসছড়ি কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে প্রাথমিক শাখা দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়ে আসছে মাইসছড়ি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০১২ সালে সমাপনী পরীক্ষায় প্রথমবার অংশ নিয়ে ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচজন জিপিএ-৫ অর্জন করে এবং শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। ওই ফলাফলের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি।

এরপর ২০১৫ সালের জেএসসি পরীক্ষায় ১৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে জিপিএ-৫সহ শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করে। ধারাবাহিক এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে উপজেলা পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি।

দীর্ঘদিনের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েই উপজেলা পর্যায়ে সেরা ফলাফল অর্জন করে তারা। এবার দ্বিতীয়বারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও সেই শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখল মাইসছড়ি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

তবে ফলাফলের এই সাফল্যের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও আধুনিক শিক্ষা উপকরণের সংকটের পাশাপাশি নেই একটি আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব। ফলে বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে কিছুটা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

মাইসছড়ি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক নির্মল কান্তি চাকমা বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমরা বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সুনাম অর্জন করে আসছি। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে পাঠদান করে যাচ্ছেন। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা অবকাঠামোগত সংকট। অবকাঠামো উন্নত হলে আমরা পাঠদানে আরও সফল হতে পারব।”

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে একটি আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব অত্যন্ত প্রয়োজন। ডিজিটাল শিক্ষার এই সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে কম্পিউটার ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর কবির (অব.)-এর মাধ্যমে খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়ার কাছে একটি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এখন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্থানীয়দের মতে, প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়েও যখন ধারাবাহিকভাবে উপজেলা পর্যায়ে ভালো ফলাফল অর্জন করে, তখন তা ওই এলাকার শিক্ষার সম্ভাবনাকেই তুলে ধরে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য আরও বিস্তৃত হতে পারে।

তাঁদের প্রত্যাশা, মাইসছড়ি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে। আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, পর্যাপ্ত ভবন, কম্পিউটার ল্যাব ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা গেলে পাহাড়ের প্রত্যন্ত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শুধু ফলাফলের দিক থেকেই নয়, মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারেও আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *