কাপ্তাইয়ে আশিকার উদ্যোগে মা ও শিশু সহায়তা প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামের মা ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশিকার উদ্যোগে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সমন্বিত মা ও শিশু সহায়তা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচি’-এর উপজেলা পর্যায়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষ ‘কিন্নরী’-তে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। প্রান্তিক মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকার দুর্গম জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সামাজিক সেবাগুলো পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
আশিকার প্রকল্প সমন্বয়কারী সুব্রত খীসার সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন আশিকার কাপ্তাই উপজেলা প্রকল্প সমন্বয়কারী মায়া চাকমা।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রিনি চাকমা, সমাজসেবা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান, কাপ্তাই স্বাস্থ্য বিভাগের সিনিয়র নার্সিং সুপারভাইজার প্রমিলা বিশ্বাস এবং বিশ্ব খাদ্য সংস্থার প্রতিনিধি হ্যাপি দেওয়ান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিতা পাড়িয়াল, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের টেকসই সামাজিক স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের কাপ্তাই উপজেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক মৃদুল চৌধুরী, ১ নম্বর চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন মিলন, কাপ্তাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্ত, ১০০ নম্বর ওয়াগ্গা মৌজার হেডম্যান অরুণ তালুকদার এবং চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টান হাসপাতালের কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিজয় মারমা।
সভায় মা ও শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা নিশ্চিত করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া এবং দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্য কার্যক্রম, লক্ষ্য, বাস্তবায়ন কৌশল এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অংশীজনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, নিরাপত্তা এবং দুর্যোগকালীন ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে অনেক প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা পেতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি উন্নয়ন সংস্থা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় নেতৃত্ব একসঙ্গে কাজ করলে এসব প্রতিবন্ধকতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সভায় প্রকল্পটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, স্বাস্থ্যকর্মী, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।