বাঘাইছড়িতে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০০ পরিবার পেল আশিকার মানবিক সহায়তা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশিকা। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংস্থাটির উদ্যোগে এ মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
আশিকার উদ্যোগে এবং স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ ও ইউকেএইড (UKAid)-সহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার আর্থিক ও কৌশলগত সহযোগিতায় এ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পৌর এলাকার ২৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে সহায়তা প্যাকেজ তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে উপজেলার বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মোট ৭০০ পরিবার এ সহায়তার আওতায় এসেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পৌরসভার কর পরিদর্শক মনিষা চাকমা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী নিজাম উদ্দিন বাবু। বিশেষ অতিথি ছিলেন আশিকার উপজেলা মনিটরিং অফিসার রুপায়ন চাকমা। এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দুর্যোগের পর অনেক পরিবার যখন খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে পড়েছে, তখন এমন সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী
সহায়তার আওতায় প্রতিটি পরিবারকে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও স্বাস্থ্য-গৃহস্থালি সামগ্রী সম্বলিত একটি প্যাকেজ দেওয়া হয়।
প্রতিটি পরিবারের খাদ্য প্যাকেজে রয়েছে ৪০ কেজি চাল, ৩ লিটার তেল, ২ কেজি ডাল, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি আলু, ১ কেজি পেঁয়াজ, ৫০০ গ্রাম রসুন এবং ১ কেজি নাপ্পি/লট্টা শুঁটকি।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে ২০ লিটারের একটি বালতি, দুটি লাইফবয় সাবান, একটি প্লাস্টিক মগ, ১০টি ওরস্যালাইন, একটি গামছা, ১ কেজি ডিটারজেন্ট পাউডার, একটি বদনা এবং পানি বিশুদ্ধকরণের ১০টি ট্যাবলেট।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস মানুষের জীবন ও জীবিকায় বড় ধরনের সংকট তৈরি করে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দুর্যোগের পরপরই খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারা বলেন, দুর্যোগের সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত মানবিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাঘাইছড়িতে আশিকার এ উদ্যোগও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক প্রয়োজন পূরণে সহায়ক হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে অনেক পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওরস্যালাইন ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী পাওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দুর্গত মানুষের জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।