সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল রফিকুল ইসলামের ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, এনডিইউ, পিএসসি (অব.)-এর সামরিক মর্যাদায় নামাজে জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসের বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের প্যারেড গ্রাউন্ডে এ আয়োজন করা হয়।
এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর ৬ মাস ১৩ দিন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

ফিউনারেল প্যারেডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে তারা মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় মরহুমের পরিবারের সদস্য, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার সামরিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক বিমান বাহিনী প্রধানের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে ফ্লাইপাস্ট অনুষ্ঠিত হয়। সামরিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ফিউনারেল প্যারেড শেষে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারে অবস্থিত শাহীন কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সামরিক জীবন
এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার বাইশপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম আব্দুল আউয়াল এবং মা হোসনে আরা বেগম।
১৯৬৭ সালে পিএএফ কলেজ, সারগোদা থেকে সিনিয়র ক্যামব্রিজ সম্পন্ন করার পর ১৯৬৮ সালের ২ আগস্ট তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনী একাডেমিতে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ১৩ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর জিডি (পি) শাখায় কমিশন লাভ করেন। একই বছর পেশওয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
স্বাধীনতার পর দেশমাতৃকার টানে তিনি ১৯৭২ সালের ২৯ মে পাকিস্তান বিমান বাহিনী থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। এরপর দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময়ের সামরিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ৩ নম্বর স্কোয়াড্রনের অধিনায়ক, এফআইএসের অধিনায়ক, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক, ডেপুটি কমান্ড্যান্ট ও কমান্ড্যান্ট, বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের এয়ার অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া বিমান প্রশিক্ষণ পরিদপ্তর ও বিমান পরিচালন পরিদপ্তরের পরিচালক, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের এয়ার ডিএস, বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডিফেন্স অ্যাটাশে হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনের ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালের ৩ জুন তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। প্রায় ৩১ বছর ২৫ দিনের কর্মজীবন শেষে ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল বিমান বাহিনী প্রধান হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
একজন দক্ষ বৈমানিক হিসেবেও তাঁর বিশেষ পরিচিতি ছিল। কর্মজীবনে তিনি PT-6, T-6G, Air Tourer, AN-24/26, Bell-206, FOUGA, SF-25C ও AN-32সহ বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজে ৫ হাজার ঘণ্টার বেশি উড্ডয়ন করেছেন।
পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে তিনি ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টরস কোর্স, জুনিয়র কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্স ও এয়ার স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে AN-24/26-এ ফ্লাইং কনভার্সন কোর্স ও AN-32-এ ফ্যামিলিয়ারাইজেশন কোর্স, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্টারন্যাশনাল ডিফেন্স ম্যানেজমেন্ট কোর্স এবং চীন থেকে এনডিইউ কোর্সও সম্পন্ন করেন।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন ছিল পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে গড়া। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিমান বাহিনীর উন্নয়ন ও দেশের সেবায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের কাছে তিনি একজন দক্ষ ও অনুসরণীয় বৈমানিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ব্যক্তিজীবনেও তিনি ছিলেন বিনয়ী, সদালাপী, নিরহংকারী ও পরোপকারী। তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবন ও দেশের প্রতি অবদান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।