রামগড়ে ফের হতদিরদ্র বাঙালির বসতবাড়ি জ্বালিয়ে দিল ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ফের আরও এক বাঙালি পরিবারের বাড়িতে আগুন দিয়ে সর্বস্ব জ্বালিয়ে দিয়েছে পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরা। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে উপজেলার কালাপানি এলাকায় মো. রহমত উল্লাহর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আগুনে বাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, রহমত উল্লাহ ২০২৪ সালের আগস্টে নিজ বাড়িতে হামলা ও মারধর এবং তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রামগড় থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন। থানা মামলা না নেয়ায় তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা করার পর থেকে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তিনি এরপর থেকে নিয়মিত বাড়িতে বসবাস করতে পারছিলেন না। তবে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য মাঝেমধ্যে গোপনে বাড়িতে যেতেন।
শনিবার সকালে নিজ বাড়িতে গেলে তাঁকে দেখে কয়েকজন সশস্ত্র উপজাতি সন্ত্রাসী ধাওয়া করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় রহমত উল্লাহ সেখান থেকে পালিয়ে স্থানীয় বাঙালিদের কাছে আশ্রয় নেন। পরে তাঁর বাড়িতে আগুন দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। আগুনে বাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় বসবাসকারী বাঙালি পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বাঙালি পরিবারগুলোর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা।
এর মাত্র একদিন আগে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে রামগড় ইউনিয়নের গরুকাটা এলাকায় খোকন সানা নামে এক কৃষকের গোয়ালঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সন্ত্রাসীরা।
আগুনে তিনটি গরু, ১৩টি হাঁস এবং একটি জেনারেটর পুড়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। একটি গরু দড়ি ছিঁড়ে বেরিয়ে যাওয়ায় সেটি প্রাণে বেঁচে যায়। এ ঘটনায় পরিবারটির বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গরুকাটার ঘটনাটিও বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁদের অভিযোগ, ওই এলাকায় বসবাসকারী বাঙালিদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি এবং চাঁদা দাবির ঘটনা রয়েছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে তাঁদের বসতভিটা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, পরপর দুই দিনে দুটি বাঙালি পরিবারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি এখন নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাঁদের মতে, এসব ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা না হলে এলাকায় আরও উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
গুচ্ছগ্রাম ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতি ইউনুছ ভূঁইয়া অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় না আনা হলে হরতাল ও অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।’
এদিকে স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে যাতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।