রাজস্থলীতে দ্বিতীয় দফায় জেলা পরিষদের ত্রাণ, সহায়তা পেল ৬০০ পরিবার

রাজস্থলীতে দ্বিতীয় দফায় জেলা পরিষদের ত্রাণ, সহায়তা পেল ৬০০ পরিবার

রাজস্থলীতে দ্বিতীয় দফায় জেলা পরিষদের ত্রাণ, সহায়তা পেল ৬০০ পরিবার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দ্বিতীয় দফায় দাঁড়িয়েছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘবে রাজস্থলী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজস্থলী উপজেলার বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি ইউনিয়নে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক পরিবারের জন্য ১৭ কেজি করে খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের খোঁজখবর নেন।

এ সময় জেলা পরিষদের সদস্য প্রতুল দেওয়ান, জেলা বিএনপির সদস্য মিশাচিং মারমা, রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান শেখ, গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সোলেমান, সহসভাপতি ছগীর আহমেদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা, কৃষক দলের সভাপতি বিশু সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুমন খান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ভূবন তঞ্চঙ্গ্যা, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহছাত্রবিষয়ক সম্পাদক লাকি মারমা, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ওয়াইংম্রাসিং মারমাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকার মানুষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু ও জীবিকার উৎস হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই সংকটময় সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পরিষদ সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আজ যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতির তুলনায় সামান্য হলেও দুর্যোগের সময়ে তাদের পাশে থাকার আন্তরিক প্রচেষ্টা।

দুর্যোগ মোকাবিলায় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে হবে না। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দ্রুত দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

পুনর্বাসনের বিষয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ত্রাণসামগ্রী পেয়ে জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি, খাদ্যসামগ্রী ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমন দুর্যোগের সময়ে খাদ্য সহায়তা পাওয়ায় পরিবারের সাময়িক খাদ্যসংকট কিছুটা হলেও কমবে।

অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন, নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠনে সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জেলা পরিষদের দ্বিতীয় দফার এই সহায়তাকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *