সীমান্ত নিরাপত্তায় পূর্ণাঙ্গ সামরিক ঘাঁটি হচ্ছে রামু সেনানিবাস, একনেকে প্রকল্প অনুমোদন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে কক্সবাজারের রামু সেনানিবাসকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ সামরিক ঘাঁটিতে রূপান্তর করা হচ্ছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চল ও কক্সবাজারের রামুতে অবকাঠামো উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় উপকূল সুরক্ষা ও সামরিক অবকাঠামো উন্নয়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন পায়।
অনুমোদিত প্রকল্প অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট থেকে কুমিরা ঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা এ এলাকায় উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপকূলীয় সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা পাবে।
একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় কক্সবাজারের রামু সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেনানিবাসের আধুনিকায়ন, স্থাপনা উন্নয়ন এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সরকারের ১,৩১১ কোটি ৫০ লাখ ৬৬ হাজার টাকার এই প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। নির্মাণ করা হবে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮৩ বর্গমিটার আবাসিক এবং ৬ হাজার ১৫৮ বর্গমিটার অনাবাসিক ভবন। পাশাপাশি প্রায় ২৫ কিলোমিটার নিকাশব্যবস্থা, ১১টি নলকূপ, স্বাস্থ্যসেবা ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
এছাড়া কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সহায়ক সুবিধা স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ভূমি উন্নয়ন করা হবে। অর্থাৎ, শুধু ভবন নির্মাণ নয় সেনাসদস্যদের আবাসন, প্রশাসনিক কার্যক্রম, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোসহ রামু সেনানিবাসকে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক সামরিক ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
একনেক সভায় অনুমোদিত এসব প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম উপকূলীয় অঞ্চলের দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি রামু অঞ্চলে কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।