কক্সবাজারের উখিয়ায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
‘শৈশব হোক স্বপ্নময়, বাল্যবিবাহ আর নয়’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত করার লক্ষ্যে সচেতনতামূলক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিক, এনজিওকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তারের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে ইমাম ও ধর্মীয় নেতারা মসজিদ-মাদ্রাসায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে বাল্যবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বাড়িয়ে একটি কার্যকর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, দারিদ্র্য, অসচেতনতা, সামাজিক চাপ ও কুসংস্কারের কারণে অনেক পরিবার অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়। পরিবার থেকেই সচেতনতার চর্চা শুরু করে এ প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
কক্সবাজার জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. সরওয়ার আকবর বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সচেতনতা আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। ধর্মীয় নেতারা নিয়মিতভাবে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরলে পরিবারগুলোর মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তারা বলেন, একটি শিশুর হাতে থাকার কথা বই-খাতা, ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন ও শিক্ষার সুযোগ; বিয়ের কাবিননামা নয়। বাল্যবিবাহের কারণে একটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে অল্প বয়সে বিয়ের ফলে মেয়েদের শিক্ষাজীবন থেমে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তাঁরা আরও বলেন, বাল্যবিবাহ সংঘটিত হওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার ও পরিস্থিতি চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে উদ্যোগী হতে হবে। কোনো পরিবার অল্প বয়সে সন্তানকে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে—এমন তথ্য পাওয়া গেলে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, প্রশাসন ও স্থানীয় সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
সমাবেশে উখিয়ায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা, বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, অভিভাবক সমাবেশ এবং ধর্মীয় নেতাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু একটি পরিবারের বিষয় নয়; এটি একটি শিশুর অধিকার, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই উখিয়াকে বাল্যবিবাহমুক্ত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সমাবেশ শেষে উখিয়াকে বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে উপস্থিত সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।