৬৪৯ দিনের দায়িত্ব শেষে বিদায় নিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য হাবীব আজম

৬৪৯ দিনের দায়িত্ব শেষে বিদায় নিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য হাবীব আজম

৬৪৯ দিনের দায়িত্ব শেষে বিদায় নিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য হাবীব আজম
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস ৯ দিন—মোট ৬৪৯ দিন দায়িত্ব পালনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম। তাঁর বিদায়কে ঘিরে রাঙামাটি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ। ফুলেল শুভেচ্ছা, করতালি, স্লোগান ও ভালোবাসায় তাঁকে বিদায় জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়। এতে জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক, ক্রীড়া ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ছাত্র-যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সম্মেলন কক্ষ থেকে বের হয়ে জেলা পরিষদ চত্বরে আসতেই হাবীব আজমকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের করতালি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে ফুলের মালা পরিয়ে দেন এবং শুভেচ্ছা জানান। পরে আবেগঘন ও প্রীতিপূর্ণ পরিবেশে একটি শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়।

সংবর্ধনায় উপস্থিত শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেন, জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার অনেক আগে থেকেই প্রায় এক যুগ ধরে রাঙামাটির সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন হাবীব আজম। প্রশাসনিক পদ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছিল বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।

তাঁদের ভাষ্য, পাহাড়ধস, অগ্নিকাণ্ড, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দুর্গম এলাকাতেও ছুটে গেছেন তিনি। অনেক সময় দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে রাতদিন পরিশ্রম করে খাদ্যসামগ্রী, জরুরি ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন।

৬৪৯ দিনের দায়িত্ব শেষে বিদায় নিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য হাবীব আজম

অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা, মুমূর্ষু ও অসহায় মানুষের চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং স্থানীয় পাঠাগারে বই দেওয়ার মতো বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

তাঁরা বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে হাবীব আজম বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

রাঙামাটির পাহাড়ি-বাঙালি অধ্যুষিত বহুমাত্রিক সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বজায় রাখতেও হাবীব আজম ভূমিকা রেখেছেন বলে অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

তাঁদের মতে, মানুষের পরিচয়ের আগে মানুষ—এই মানবিক চিন্তাকে সামনে রেখে তিনি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অংশগ্রহণ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

বিদায় অনুষ্ঠানে আম জনতা দল রাঙামাটি জেলা শাখা, সিএইচটি ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশন, হিলফুল ফুজুল যুব সংগঠন কাঁঠালতলী, হিলফুল ফুজুল যুব সংগঠন স্বর্ণটিলা, গ্রিন হিলস স্পোর্টিং ক্লাব, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্পোর্টিং ক্লাব, হিল সার্ভিস সংগঠন, পার্বত্য ছাত্র সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক, ক্রীড়া ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, হাবীব আজমের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক শুধু জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দীর্ঘদিনের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে তাঁর সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ফলে তাঁর বিদায়ের মুহূর্তটি অনেকের কাছেই আবেগঘন হয়ে ওঠে।

৬৪৯ দিনের দায়িত্ব শেষে বিদায় নিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য হাবীব আজম

শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেন, কোনো প্রশাসনিক বা জনপ্রতিনিধিত্বমূলক দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হতে পারে, কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা ও দায়বদ্ধতার কোনো মেয়াদ নেই। হাবীব আজম দীর্ঘদিন ধরে যে মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন, তা রাঙামাটির মানুষের মধ্যে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

তাঁদের মতে, হাবীব আজমের বিদায় শুধু একটি প্রশাসনিক দায়িত্বের সমাপ্তি নয়; এটি তাঁর জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের নতুন অধ্যায়ের সূচনাও হতে পারে। ভবিষ্যতেও তিনি বৃহত্তর পরিসরে মানুষের পাশে থাকবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত জনতা।

বিদায় সংবর্ধনায় উপস্থিত ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকেও হাবীব আজমকে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে জনসেবায় দেখতে চাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

কেউ কেউ তাঁকে ভবিষ্যতে রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেওয়া কিংবা প্রয়োজন হলে ২৯৯ নম্বর রাঙামাটি সংসদীয় আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বৃহত্তর পরিসরে জনসেবায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ফুলেল শুভেচ্ছা, করতালি ও ভালোবাসায় হাবীব আজমকে বিদায় জানানো হয়। বিদায়ের সময় জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপস্থিত মানুষের আবেগঘন উপস্থিতি ও শুভকামনা যেন তুলে ধরে—একজন জনপ্রতিনিধির আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব শেষ হলেও মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং জনসেবার প্রত্যাশা শেষ হয় না।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed