দুর্গম পাহাড়ের বেকার যুবকদের দক্ষ করে তুলছে সেনাবাহিনীর দীঘিনালায় জোন, কারিগরি প্রশিক্ষণ শুরু
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বেকার যুবকদের কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন। এর অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৩৬ জন বেকার যুবককে নিয়ে তিন সপ্তাহব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
দীঘিনালা জোন উপ-অধিনায়ক মেজর শিহাবুন সাকিব রুশাদ প্রশিক্ষণ কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং তাদের কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। তিন সপ্তাহের এ কর্মসূচিতে দুটি পৃথক কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে মেকানিক্যাল অ্যান্ড রিপেয়ার এবং ইলেকট্রিক্যাল মোবাইল রিপেয়ার।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ৩৬ জন যুবক দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পাঁচটি ইউনিয়নের বাসিন্দা। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁরা হাতে-কলমে কারিগরি কাজ শেখার সুযোগ পাবেন, যা ভবিষ্যতে চাকরি কিংবা নিজস্ব উদ্যোগে কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রশিক্ষণের সব খরচ বহন করছে দীঘিনালা জোন
এই উদ্যোগের অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো, প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ফি নেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের যাতায়াত খরচ এবং প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম ও উপকরণও সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অনেক পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় প্রশিক্ষণের খরচ ও যাতায়াত ব্যয় তরুণদের কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমন বাস্তবতায় সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগকে আরও সহজলভ্য করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শুধু সহায়তা নয়, কর্মসংস্থানের পথ তৈরির উদ্যোগ
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বেকারত্ব কমাতে শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, বরং তরুণদের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় দীঘিনালা জোনের এ কর্মসূচিকে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারিগরি দক্ষতা অর্জনের পর প্রশিক্ষণার্থীরা স্থানীয় পর্যায়ে মেরামত ও কারিগরি সেবা দেওয়ার মাধ্যমে আয় করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে কেউ চাইলে ভবিষ্যতে নিজস্ব ছোট ব্যবসা বা ওয়ার্কশপ গড়ে তুলেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন।
বিশেষ করে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল-মোবাইল রিপেয়ারের মতো ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ স্থানীয় বাজারে সরাসরি কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। ফলে প্রশিক্ষণ শেষে তরুণদের একটি অংশ নিজ এলাকায় থেকেই আয়ের পথ তৈরি করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পাহাড়ের তরুণদের স্বাবলম্বী করার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকাগুলোতে ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগের স্বল্পতার কারণে অনেক তরুণের দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগানোর সুযোগ সীমিত। এ অবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে একদিকে যেমন তরুণদের দক্ষতা বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের এ উদ্যোগ তাই কেবল একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়; বরং পাহাড়ের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার একটি প্রশংসনীয় প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, দুর্গম এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের হাতে কাজ তুলে দেওয়ার মতো উদ্যোগ পাহাড়ে স্থায়ী উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে তরুণদের মধ্যে হতাশা কমার পাশাপাশি তারা বৈধ ও উৎপাদনশীল কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর অংশগ্রহণকারী যুবকেরা অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আরও বিস্তৃত করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অধিকসংখ্যক বেকার যুবককে এর আওতায় আনা হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তা আরও বড় ভূমিকা রাখবে।
দুর্গম পাহাড়ের তরুণদের হাতে দক্ষতা, আর সেই দক্ষতার মাধ্যমে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ—দীঘিনালা জোনের এ উদ্যোগ পাহাড়ে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।