চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের মধ্যেই পূর্ব লাদাখে ভারতীয় সেনার সাঁজোয়া ইউনিট পরিদর্শনে শীর্ষ কর্মকর্তা

চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের মধ্যেই পূর্ব লাদাখে ভারতীয় সেনার সাঁজোয়া ইউনিট পরিদর্শনে শীর্ষ কর্মকর্তা

চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের মধ্যেই পূর্ব লাদাখে ভারতীয় সেনার সাঁজোয়া ইউনিট পরিদর্শনে শীর্ষ কর্মকর্তা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

চীনের সঙ্গে সীমান্ত ও ভূখণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে ভারতের পূর্ব লাদাখে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া ইউনিট পরিদর্শন করেছেন দেশটির সাউদার্ন কমান্ডের আর্মি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজেশ পুষ্কর। সামরিক সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি রেজিমেন্টগুলোর পেশাগত সক্ষমতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উচ্চতর প্রস্তুতি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

সম্প্রতি পূর্ব লাদাখে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া রেজিমেন্টগুলো পরিদর্শনে যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজেশ পুষ্কর। তিনি এসব রেজিমেন্টের কর্নেল অব দ্য রেজিমেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

সফরকালে তিনি কঠিন উচ্চতাপূর্ণ পরিবেশে মোতায়েন থাকা সেনা সদস্যদের পেশাগত মান, যুদ্ধপ্রস্তুতি এবং সামরিক সক্ষমতা পর্যালোচনা করেন। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি সামরিক ব্যবস্থায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে রেজিমেন্টগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কেও খোঁজ নেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উচ্চতাপূর্ণ পূর্ব লাদাখের মতো কঠিন ভৌগোলিক ও আবহাওয়াগত পরিবেশে কার্যকর সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের এলাকায় সেনা সদস্যদের দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতাও বজায় রাখতে হয়।

পরিদর্শনের সময় লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজেশ পুষ্কর বিভিন্ন পর্যায়ের সেনা সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি তাদের পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

সেনা সদস্যদের সঙ্গে তাঁর এই মতবিনিময় উৎসাহব্যঞ্জক ছিল বলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এতে সদস্যদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে এবং আর্মার্ড কোরের ঐতিহ্য ও পেশাগত মূল্যবোধ ধরে রেখে দায়িত্ব পালনে তারা অনুপ্রাণিত হবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

পূর্ব লাদাখে এই সফরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর পূর্ব লাদাখসহ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা বিরাজ করেছে। সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অবকাঠামো ও সেনা মোতায়েন নিয়েও দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও চীনের মধ্যে একাধিক দফায় সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনা হয়েছে। কিছু এলাকায় সেনা প্রত্যাহার ও টহল নিয়ে সমঝোতাও হয়েছে। তবে সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি। ফলে লাদাখে ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি ও সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়টি নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে পূর্ব লাদাখে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া রেজিমেন্টগুলোর সক্ষমতা ও প্রস্তুতি পরিদর্শনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম উচ্চভূমিতে সাঁজোয়া যান ও ভারী সামরিক সরঞ্জাম পরিচালনার সক্ষমতা ধরে রাখা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর ভারতের জোরের বিষয়টি এ সফরের মাধ্যমে সামনে এসেছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া কোর মূলত ট্যাংক ও অন্যান্য সাঁজোয়া যুদ্ধযান পরিচালনা করে। সমতল যুদ্ধক্ষেত্রের তুলনায় পূর্ব লাদাখের উচ্চভূমিতে এসব সামরিক সরঞ্জাম পরিচালনা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। ফলে সেখানে সামরিক প্রযুক্তি, রক্ষণাবেক্ষণ, দ্রুত মোতায়েন এবং প্রতিকূল পরিবেশে যুদ্ধক্ষমতা ধরে রাখাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজেশ পুষ্করের এই সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন ভারত-চীন সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা আগের তুলনায় কিছুটা কমলেও ভূখণ্ডগত বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি। ফলে পূর্ব লাদাখে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সাঁজোয়া ইউনিটগুলোর কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণকে সীমান্ত নিরাপত্তার বৃহত্তর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *