মণিপুরে ফের সহিংসতা, গুলিতে সিআরপিএফ সদস্য আহত; পুড়েছে দুই বাড়ি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের মণিপুরে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সেনাপতি জেলার তাফৌ এলাকায় গোলাগুলিতে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) এক সদস্য আহত হয়েছেন। একই সময়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাফৌ এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলি শুরু হলে ৩৬ ব্যাটালিয়ন সিআরপিএফের সাব-ইন্সপেক্টর (জেনারেল ডিউটি) প্রদীপ সিংয়ের বাম পায়ে গুলি লাগে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য সেনাপতি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোলাগুলির আগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা দুটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর মধ্যে একটি বাড়ির মালিক কুকি সম্প্রদায়ের এবং অন্যটি পুমাই নাগা সম্প্রদায়ের বলে জানা গেছে। তবে বাড়ি দুটিতে অগ্নিসংযোগের পেছনে কারা ছিল এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর তাফৌ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, সশস্ত্র কুকি গোষ্ঠীর সদস্যরা একটি লিয়াংমাই নাগা গ্রামে হামলা চালাচ্ছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সহিংসতার মধ্যে সেনাপতি শহরের কাছে ইম্ফল-দিমাপুর সংযোগকারী জাতীয় মহাসড়ক-২ অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। সড়কে টায়ার ও বিভিন্ন সামগ্রী জ্বালিয়ে রাখার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
কুকি মালিকানাধীন বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাফৌ কুকি ভিলেজ অথরিটি তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা ঘটনাটিকে ‘অমানবিক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
ভিলেজ অথরিটি আরও জানিয়েছে, বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সামনে এসে কুকি প্রথাগত আইন অনুযায়ী বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
সাম্প্রতিক এই সহিংসতার পেছনে মণিপুরে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে গত ১৩ মে নোনি ও কাংপোকপি জেলার দুটি পৃথক স্থানে অজ্ঞাত সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলায় চারজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিনজন গির্জার নেতা ও একজন নাগা সম্প্রদায়ের ব্যক্তি ছিলেন। ওই হামলার পর পাল্টাপাল্টি সহিংসতায় নাগা ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের অন্তত ৪৮ জন বেসামরিক নাগরিককে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী আটক করে রাখে বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রায় এক মাস পর আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হলেও পরে কাংপোকপি জেলার খারাম ভাইফেই গ্রামের কাছে ছয়জন নাগা পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনার তদন্ত করছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। তদন্তের অংশ হিসেবে জুলাই মাসে পৃথক দুটি অভিযানে এক দম্পতিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সর্বশেষ তাফৌয়ের সহিংসতার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।