পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগের দাবি, আইসিজেতে যাওয়ার পরিকল্পনা চাকমা নেতাদের

পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগের দাবি, আইসিজেতে যাওয়ার পরিকল্পনা চাকমা নেতাদের

পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগের দাবি, আইসিজেতে যাওয়ার পরিকল্পনা চাকমা নেতাদের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার দাবিতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারতের মিজোরামে বসবাসরত চাকমা নেতাদের একটি অংশ। এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) যাওয়ার পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি মিজোরামের সংবাদমাধ্যম জালেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুইছাং আসনের বিধায়ক রাসিক মোহন চাকমা এ কথা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের মতামত উপেক্ষা করে অঞ্চলটিকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

রাসিক মোহন চাকমার ভাষ্য, ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত স্বাধীন হওয়ার আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা মুসলিম ছিলেন না। তাঁর দাবি, সে সময় ওই অঞ্চলের প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ মুসলিম ছিলেন না এবং অঞ্চলটির নিজস্ব রাজপরিবারও ছিল। বিভাজনের সময় ধর্মীয় জনসংখ্যার ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অঞ্চল ভাগের নীতি গ্রহণ করা হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামকে পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের ১৭ আগস্ট বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশনের সীমানা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়। এ সিদ্ধান্তকে চাকমারা মেনে নিতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি। এ কারণে প্রতিবছর ১৭ আগস্টকে চাকমাদের পক্ষ থেকে ‘ব্ল্যাক ডে’ হিসেবে পালন করা হয় বলে জানান এই বিধায়ক।

পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ সম্পর্কে রাসিক মোহন চাকমা বলেন, অঞ্চলটিকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে আইনগতভাবে কোনো সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে তাঁরা চিন্তাভাবনা করছেন। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সম্ভাব্য পথ খুঁজে দেখছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, ভারতে বসবাসরত চাকমাদের বিভিন্ন সংগঠনও এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।

রাসিক মোহন চাকমা আরও দাবি করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ চাকমা বসবাস করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অঞ্চলটিতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর অনুপাতও সময়ের সঙ্গে বেড়েছে এবং বর্তমানে তারা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৮ শতাংশ।

তবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যাওয়ার উদ্যোগের বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. লালিয়ানছুঙ্গা। চাকমা বিষয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত এই শিক্ষকের মতে, চাকমা নেতাদের এ ধরনের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা হতে পারে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত মূলত রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের বিরোধের বিষয় বিবেচনা করে। ফলে কোনো রাষ্ট্রের পক্ষ হয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরোধ না হলে চাকমা নেতাদের করা কোনো আবেদন আদালত গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।

ড. লালিয়ানছুঙ্গার মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বর্তমানে বাংলাদেশের একটি অংশ এবং সেখানে মুসলিম জনগোষ্ঠীও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বসবাস করে। ভারতের নাগরিকত্বসংক্রান্ত আইন ও বাস্তবতার কারণে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি বাস্তবায়ন করাও অত্যন্ত কঠিন।

তিনি আরও বলেন, মিজোরামে চাকমাদের জন্য ইতোমধ্যে চাকমা স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ (সিএডিসি) রয়েছে এবং ভারতের সংবিধান ও আইনের আওতায় তাদের বিভিন্ন অধিকারও সুরক্ষিত। এ অবস্থায় পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিকে ঘিরে নতুন কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলে বাংলাদেশ থেকে চাকমাদের মিজোরামে চলে আসার প্রবণতা বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি মিজোরাম সরকার ও সেখানকার নাগরিক সমাজের নজরে রাখা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা এবং মিয়ানমারের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ১৩ হাজার ২৯৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই অঞ্চলটি রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে গঠিত।

অঞ্চলটিতে বাঙালি ছাড়াও চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চাকমা সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের চাকমা নেতাদের একাংশ নতুন করে অঞ্চলটিকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি সামনে এনেছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed