হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডর রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডর রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডর রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

লোকালয়ে হাতি প্রবেশ করলে তাকে তাড়ানোর চেষ্টা না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত বন বিভাগ অথবা এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমকে (ইআরটি) খবর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি বলেন, হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়লে প্রথম দায়িত্ব হলো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। হাতিকে উত্ত্যক্ত বা তাড়ানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দিতে হবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়ায় আয়োজিত এক সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) অর্থায়নে এবং আরণ্যক ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে জালিয়াপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।

আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমাতে শুধু বন বিভাগের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও চলাচলের ঐতিহ্যগত করিডর সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, বন ও পাহাড়ি এলাকায় কৃষিকাজের সম্প্রসারণ, মানুষের বসতি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কারণে হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও চলাচলের পথ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। ফলে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে হাতি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।

তারা বলেন, হাতি লোকালয়ে প্রবেশের পর শুধু তাকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের পথ সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংঘাতের সময় দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, হাতির চলাচলের করিডরগুলো নিরাপদ রাখা গেলে একদিকে হাতির স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে মানুষের বসতিতে হাতির প্রবেশের ঘটনাও কমানো সম্ভব হবে।

সভায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় হাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, বনাঞ্চলে গাছপালার বিস্তার এবং বিভিন্ন উদ্ভিদের বীজ ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে হাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে হাতির অবদান বিবেচনায় তাকে ‘ইকোসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার’ বলা হয়।

তাদের মতে, হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডর সংরক্ষণ করা গেলে একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং মানুষের জানমাল ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানে হাতি সংরক্ষণ, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান এবং হাতির আচরণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন আলোচনা করা হয়।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ, আরণ্যক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ বাবলা মহাজন, জালিয়াপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সিকান্দার আলী, ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা শাফিউল আলম, জালিয়াপালং বিট কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, হাতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, হাতি সংরক্ষণ এবং মানুষ ও হাতির সংঘাত কমাতে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছর ১২ আগস্ট বিশ্ব হাতি দিবস পালন করা হয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *