রামগড়ে মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ, জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান পুলিশের
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
‘মাদক থেকে দূরে থাকি, সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির রামগড়ের বলিপাড়া বাজারে মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে রামগড় উপজেলার ১ নম্বর পাতাছড়া ইউনিয়নের বলিপাড়া বাজারে রামগড় থানা পুলিশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মাদকবিরোধী সমাবেশে মিলিত হয়।
কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান দেওয়া হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পরিবার ও পুরো সমাজের ওপর। মাদকের কারণে অপরাধপ্রবণতা, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক অবক্ষয় বাড়তে পারে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে মাদক কারবার ও সেবনের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজির আলম বলেন, “সমাজকে মাদকমুক্ত করতে গণসচেতনতা বাড়াতে হবে। মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি সমাজের প্রত্যেক মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি বলেন, যারা মাদকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলবেন এবং মাদকসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করবেন, পুলিশ সবসময় তাদের পাশে থাকবে।
কর্মসূচিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
পুলিশ জানায়, জনসচেতনতা তৈরির ধারাবাহিকতায় এর আগে রামগড়, সোনাইপুল, নাকাপা ও কালাডেবা বাজারেও মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য বাজার ও এলাকাতেও এ ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে।
পুলিশের এ উদ্যোগকে স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদকের বিস্তার পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব নয়; এর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা এবং মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।