খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দীঘিনালার বিভিন্ন সড়কে পানি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় টানা বৃষ্টিতে মাইনী নদীসহ পাহাড়ি ছড়া ও খালের পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে উপজেলার মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। একই সঙ্গে দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগসহ সারাদেশের যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে দীঘিনালায় শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত রাতভর অব্যাহত থাকে। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলের পাশাপাশি মাইনী নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে থাকে। এ সময় এলাকায় ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলে মাইনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীসংলগ্ন ও নিচু এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালীর বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় অনেক স্থানে পানি ঢুকে পড়েছে বসতঘরেও।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সড়কপথে চলাচলকারী মানুষ। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের কয়েকটি অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এবং সারাদেশের যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে দেশীয় নৌকা ও বোট ব্যবহার করে চলাচল করছেন। তবে সড়কের পরিবর্তে নৌপথে চলাচল করতে গিয়ে সময় ও খরচ বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বাড়তি ঝুঁকি ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে, হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে আমনের ক্ষেত ও গ্রীষ্মকালীন সবজির বিভিন্ন ফসলের মাঠ। আমন ধানের চারা ও সবজি পানিতে ডুবে থাকায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
কৃষকদের আশঙ্কা, পানি দ্রুত না কমলে দীর্ঘ সময় ফসল পানির নিচে থাকায় আমন ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে সদ্য রোপণ করা আমনের জমি এবং গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড়ি ঢল ও মাইনী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নতুন করে আরও এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এরই মধ্যে নিচু এলাকার অনেক স্থানে পানি ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নদী ও পাহাড়ি ছড়া-খালের পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা জরুরি। পাশাপাশি পানির প্রবাহ কমে গেলে দ্রুত সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা বলছেন, মাইনী নদীর পানি দ্রুত কমে না গেলে প্লাবিত এলাকার পরিধি আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বসতঘর, কৃষিজমি ও সড়ক যোগাযোগের ওপর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বৃষ্টিপাত ও নদীর পানির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।