খেলাধুলায় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা, বান্দরবানে শেষ হলো সম্প্রীতির ফুটবল টুর্নামেন্ট
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খেলাধুলার মাধ্যমে পার্বত্য জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে শেষ হয়েছে ‘সম্প্রীতির ফুটবল টুর্নামেন্ট’। প্রতিযোগিতাটি আয়োজনের ক্ষেত্রে বান্দরবান সেনা জোনের সার্বিক সহযোগিতা স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
বান্দরবান সম্মিলিত ক্রীড়া পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর রোয়াংছড়ি সাব জোন অধিনায়ক মেজর রাফিউর রহমান রাজীব, এসইউপি। খেলা শেষে তিনি বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।
বান্দরবান সম্মিলিত ক্রীড়া পরিষদের সভাপতি আজহারুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বান্দরবান জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন তুষার এবং বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু।

ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় কিংস অব বনরুপা ও জামছড়ি ইউনিয়ন একতা স্পোর্টিং ক্লাব। শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে কিংস অব বনরুপা ৪-১ গোলের ব্যবধানে জামছড়ি ইউনিয়ন একতা স্পোর্টিং ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন কিংস অব বনরুপা এবং রানারআপ জামছড়ি ইউনিয়ন একতা স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় মাঠজুড়ে ছিল খেলোয়াড়, সংগঠক ও দর্শকদের উচ্ছ্বাস।
আয়োজকরা জানান, শুধু প্রতিযোগিতামূলক খেলা আয়োজন করাই এ টুর্নামেন্টের উদ্দেশ্য ছিল না। পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার তরুণদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে খেলাধুলার মাধ্যমে পারস্পরিক পরিচয়, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করাই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও খেলার বাইরে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে পুরো আয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো বৈচিত্র্যময় অঞ্চলে তরুণ সমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা সামাজিক সম্প্রীতি ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে বান্দরবান সেনা জোনের সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ টুর্নামেন্টটিকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্থানীয় ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করা, তরুণদের মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত এমন আয়োজন হলে তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও দলগত চেতনা আরও বিকশিত হবে।
টুর্নামেন্টজুড়ে বান্দরবান সেনা জোনের সার্বিক সহযোগিতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়রা। তাদের মতে, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সামাজিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ পার্বত্য এলাকার তরুণদের মধ্যে আস্থা ও উৎসাহ বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে ‘সম্প্রীতির ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর উদ্বোধন করা হয়। এবারের প্রতিযোগিতায় বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকার মোট ১৬টি ফুটবল দল অংশ নেয়। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার পর ফাইনালে কিংস অব বনরুপার শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সম্প্রীতির এই ক্রীড়া আয়োজন।
আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বিস্তৃত করা গেলে বান্দরবানের তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।