মাটিরাঙ্গায় সেনাবাহিনী আয়োজিত সম্প্রীতি কাপ ফুটবল: শিরোপা জিতল গোমতী ইউনিয়ন একাদশ
oplus_2
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা, মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা এবং পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় অনুষ্ঠিত ‘সম্প্রীতি কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা’র ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের মাটিরাঙ্গা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে মাটিরাঙ্গা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে গোমতী ইউনিয়ন একাদশ ২-০ গোলে বেলছড়ি ইউনিয়ন একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় উভয় দল।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে গোমতী ইউনিয়ন একাদশ। দ্বিতীয়ার্ধের ২৬ মিনিটে হাবিবের পায়ের জাদুতে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় তারা। গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ বাড়ায় বেলছড়ি ইউনিয়ন একাদশ। তবে তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
ম্যাচের ৪২ মিনিটে উজ্জ্বল ত্রিপুরা আরও একটি গোল করে গোমতী ইউনিয়ন একাদশের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের ব্যবধান ধরে রেখে শিরোপা নিজেদের করে নেয় গোমতী ইউনিয়ন একাদশ।
ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতুসহ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, ক্রীড়া সংগঠক ও বিপুলসংখ্যক দর্শক।

খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি, পুরস্কার ও প্রাইজমানি তুলে দেন প্রধান অতিথি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান। চ্যাম্পিয়ন গোমতী ইউনিয়ন একাদশকে ২৫ হাজার টাকা এবং রানার্সআপ বেলছড়ি ইউনিয়ন একাদশকে ২০ হাজার টাকা প্রাইজমানি দেওয়া হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান বলেন, যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা এবং খেলাধুলার প্রতি তাদের আগ্রহী করে তুলতেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আয়োজকরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের অবসর সময়কে ইতিবাচক কাজে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করে এবং মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, মাটিরাঙ্গা জোনের উদ্যোগে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন শুধু একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিরও একটি কার্যকর মাধ্যম। বিশেষ করে বিভিন্ন ইউনিয়নের তরুণদের একই মাঠে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় পারস্পরিক পরিচিতি ও বন্ধুত্বের পরিসরও বাড়ছে।
তারা বলেন, পাহাড়ি জনপদে তরুণদের জন্য নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের সুযোগ সবসময় সহজলভ্য নয়। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্থানীয় জোনগুলোর পক্ষ থেকে ক্রীড়া সামগ্রী, মাঠের আয়োজন, প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার প্রদানের মতো উদ্যোগ তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এসব উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়াতেও সহায়ক হচ্ছে।
ফাইনাল ম্যাচজুড়ে চমৎকার ধারাভাষ্য দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন ক্রীড়া সংগঠক ফোরকান হোসেন সোহাগ। ম্যাচে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করেন মো. এরশাদুল আলম। তাঁর সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দেলোয়ার হোসেন দিলু ও নজরুল ইসলাম।
প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের জন্যও খেলোয়াড়দের পুরস্কৃত করা হয়। ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন গোমতী ইউনিয়ন একাদশের উজ্জ্বল। গোমতী ইউনিয়নের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান আসাদ ভূঁইয়া। বেলছড়ি ইউনিয়ন একাদশের সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হন জহিরুল ইসলাম। আর বেলছড়ি ইউনিয়নের সেরা গোলদাতার পুরস্কার পান আব্দুল্লাহ আল মামুন, যিনি পুরো প্রতিযোগিতায় তিনটি গোল করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আলতাফ মাহমুদ রুবেল এবং গুইমারা রিজিয়নের স্টাফ অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান। এছাড়া মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিন, মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শাহজালাল কাজল, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান, মাটিরাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জয়নাল, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, লিগ পদ্ধতিতে আয়োজিত ‘সম্প্রীতি কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা’ গত ১৯ আগস্ট শুরু হয়। এতে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার একটি দলসহ মোট ছয়টি দল অংশগ্রহণ করে। ধারাবাহিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ফাইনালে গোমতী ইউনিয়ন একাদশ ও বেলছড়ি ইউনিয়ন একাদশ মুখোমুখি হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, মাটিরাঙ্গায় এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের মাঠমুখী করার পাশাপাশি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করা, পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং একটি সুস্থ, সুন্দর ও ইতিবাচক যুবসমাজ গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।