রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনীতির পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনীতির পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনীতির পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি (ঢাবি)’। একই সঙ্গে সংগঠনটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং রোহিঙ্গাদের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।

রোহিঙ্গা গণহত্যার নয় বছর স্মরণে আয়োজিত এক সেমিনারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক এসব কথা বলেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এ সেমিনার হয়। এতে সংগঠনের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

জিয়াউল হক ‘রোহিঙ্গা সংকটের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, প্রেক্ষাপট, ধারাবাহিকতা ও সমাধান’ শীর্ষক মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তার দাবি, রোহিঙ্গারা আরাকান অঞ্চলের প্রাচীন জনগোষ্ঠীর অংশ এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করে আসছে। তিনি ১৭৮৪ সালে বার্মার রাজা বোদাপায়ার আরাকান দখল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ শাসনামল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগ এবং পরবর্তী সময়ে মিয়ানমারের সামরিক শাসনামলে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ১৯৮২ সালের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব আইন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে সংকটকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। এরপর ১৯৭৮, ১৯৯১-৯২, ২০১৬ এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে বিভিন্ন দমন-পীড়নের মুখে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর সংঘটিত ঘটনাকে বর্তমান রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করে জিয়াউল হক বলেন, ওই সময় কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। পূর্বে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাসহ বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বক্তব্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে চলমান মামলার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। জিয়াউল হক বলেন, ২০১৯ সালে গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে মামলা করে। মামলাটির চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছে এবং আদালত রায় ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। জাতিসংঘ, ওআইসি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আসিয়ান ও সার্কের মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর ব্যবস্থাপনায় বিদেশি সংস্থা ও এনজিওগুলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন জিয়াউল হক। তার মতে, আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা নেতাদের সম্পৃক্ত করে বৈশ্বিক জনমত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

জিয়াউল হক আরও বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। তার বক্তব্যে আরাকান আর্মির প্রভাব, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়ও উঠে আসে।

এছাড়া সাম্প্রতিক ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডর’ প্রস্তাবকে কূটনৈতিকভাবে কাজে লাগানো, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোকে সংকট সমাধানে আরও সক্রিয় করা এবং আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়ার মামলায় বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *