ভুষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটির বরকল উপজেলার ৪ নম্বর ভুষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ছাড়া অন্যান্য দিন ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ থাকে। এতে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে এসে দুর্ভোগে পড়ছেন দুর্গম এই ইউনিয়নের হাজারো বাসিন্দা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে একজন সচিব, একজন উদ্যোক্তা ও একজন তথ্যসেবা প্রদানকারী থাকার কথা থাকলেও তাঁদের নিয়মিত কার্যালয়ে পাওয়া যায় না। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষকে অনেক সময় সেবা না পেয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে তাঁদের সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভুষনছড়া বাজারের দিন ইউনিয়ন পরিষদে কিছুটা কার্যক্রম দেখা গেলেও সপ্তাহের অন্যান্য দিন পরিষদের কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির থাকে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এ পরিস্থিতি সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা কদর আলী অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যসেবা প্রদানকারী ও কম্পিউটার অপারেটর মো. লিটনকে গত পাঁচ বছরে তিনি নিয়মিত পরিষদে দেখেননি। তাঁর দাবি, ওই কর্মী রাঙামাটি থেকে সরকারি বেতন-ভাতা নিলেও ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন না।
অভিযোগের বিষয়ে তথ্যসেবা প্রদানকারী ও কম্পিউটার অপারেটর মো. লিটন বলেন, “আমি শুধু বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদে যাই কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য।”
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা নিজাম সওদাগর অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রূপায়ণ খীসা নিয়মিত অফিস করেন না। তাঁর দাবি, সচিবের ভাই একজন উপসচিব হওয়ায় তিনি সেই প্রভাব কাজে লাগান। একই সঙ্গে সরকারি চাকরির পাশাপাশি তিনি ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন নিজাম সওদাগর।
এ ছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ জ্ঞানপ্রিয় চাকমা কীভাবে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রূপায়ণ খীসা বলেন, “আমি বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অফিস করি।”
প্রতিদিন অফিস না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থায়ী চেয়ারম্যান না থাকায় প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা রাঙামাটিতে থাকেন। বিভিন্ন কাগজপত্রে তাঁর স্বাক্ষরের প্রয়োজন হওয়ায় তাঁকেও রাঙামাটিতে থাকতে হয়।
ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে রূপায়ণ খীসা বলেন, “আমি ঠিকাদারদের সহযোগিতা করি।”
স্থানীয়দের দাবি, শুধু বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার সময় নয়, স্থায়ী চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকার সময়ও সচিব রূপায়ণ খীসা নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে অফিস করতেন না। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদের সেবা কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলেও দাবি তাঁদের।
বর্তমানে ৪ নম্বর ভুষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ শূন্য রয়েছে। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বরকল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ থাকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বরকল উপজেলায় স্থায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকায় এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভুষণছড়া ইউনিয়নটি দুর্গম হওয়ায় সরকারি সেবা নিতে তাঁদের এমনিতেই নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় সেই দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গিয়ে একাধিকবার ফিরে আসতে হচ্ছে। বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ জরুরি কাগজপত্রের প্রয়োজন হলে সমস্যাটি আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সরকারি সেবা কার্যক্রম সচল রাখা এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তাঁরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভুষনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম নিয়মিত ও জনবান্ধব করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।