পাহাড়ে সম্প্রীতি ও মানবিক সহায়তায় বিজিবি, অসহায় তিন চাকমা পরিবার পেল ঢেউটিন ও সেলাই মেশিন

পাহাড়ে সম্প্রীতি ও মানবিক সহায়তায় বিজিবি, অসহায় তিন চাকমা পরিবার পেল ঢেউটিন ও সেলাই মেশিন

পাহাড়ে সম্প্রীতি ও মানবিক সহায়তায় বিজিবি, অসহায় তিন চাকমা পরিবার পেল ঢেউটিন ও সেলাই মেশিন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাহাড়ি জনপদে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা জোরদারের পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি।

এরই ধারাবাহিকতায় রাজনগর ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিজিবি) অধিনায়কের নির্দেশনায় জোন তহবিল থেকে অসহায় তিনটি পাহাড়ি চাকমা পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন এবং একটি পরিবারকে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সেলাই মেশিন অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনটি অসহায় চাকমা পরিবারের জন্য মোট ৪ বান বা ৩২টি ঢেউটিন প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে একটি অসহায় পরিবারের হাতে একটি সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য এ সহায়তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন পাওয়ায় অসহায় পরিবারগুলো নিরাপদ ও টেকসইভাবে বসবাসের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে সেলাই মেশিন পাওয়া পরিবারটি ঘরে বসে কাজ করে আয় করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর সুযোগ পাবে।

স্থানীয়দের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগ পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

No photo description available.

বিজিবির এ ধরনের সহায়তা শুধু তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সেলাই মেশিন বিতরণের মাধ্যমে একজন অসহায় মানুষের জন্য নিজস্ব আয়ের পথ তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে আসছে। অসহায় পরিবারকে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, দুর্যোগে সহযোগিতা এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বাহিনীটির সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিরাপত্তার পাশাপাশি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সে দৃষ্টিকোণ থেকে বিজিবির মানবিক সহায়তা স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে বিজিবি দেখিয়েছে, সীমান্ত পাহারা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বের পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের কল্যাণেও বাহিনীটির দৃষ্টি রয়েছে। ঘর নির্মাণের উপকরণ ও আত্মকর্মসংস্থানের সরঞ্জাম পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও রাজনগর ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিজিবি) এর মতো সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে পাহাড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও আস্থার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *