পানছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ২১ দিনব্যাপী স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
গর্ভকালীন স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা, নিরাপদ প্রসব, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্য এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে স্থানীয় মানুষের সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়াতে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ২১ দিনব্যাপী স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পানছড়ি আর্মি ক্যাম্পে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি জোনের আয়োজনে পরিচালিত এ প্রশিক্ষণ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলবে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য অনেক সময় সহজে মানুষের কাছে পৌঁছায় না। বিশেষ করে গর্ভবতী মা, নবজাতক ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সেনাবাহিনীর এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিচর্যা, নিরাপদ প্রসবের প্রস্তুতি, প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যা, নবজাতক ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মসূচির সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করছেন খাগড়াছড়ি জোনের আরএমও ক্যাপ্টেন তানজিম ইসলাম অর্নব। পাশাপাশি পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরাও প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবেন।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী কার্যক্রমে পানছড়ি সাব-জোন কমান্ডার ক্যাপ্টেন আশিকুজ্জামান, প্রশিক্ষক এবং ৩৫ জন প্রশিক্ষণার্থী উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, শুধু চিকিৎসাসেবা প্রদান নয়, স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য বিষয়ে জ্ঞান ও সক্ষমতা তৈরি করাও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা গর্ভবতী মা ও শিশুদের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা, নিরাপদ প্রসবের প্রস্তুতি, অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিত করা এবং জরুরি মুহূর্তে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা পাবেন।
দুর্গম জনপদে স্বাস্থ্যসচেতনতার নতুন সুযোগ
পানছড়ির মতো পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় অনেক মানুষ ভৌগোলিক দূরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনের সময় দ্রুত চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে পারেন না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যজ্ঞান থাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে গর্ভাবস্থা, প্রসব ও শিশুর অসুস্থতার ক্ষেত্রে বিপদের প্রাথমিক লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সময়ে হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক সময় জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সেই সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২১ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ শুধু অংশগ্রহণকারী ৩৫ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা নিজেদের পরিবার, প্রতিবেশী ও স্থানীয় সমাজে অর্জিত জ্ঞান ছড়িয়ে দিলে এর সুফল বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছাতে পারে। ফলে এটি দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থানীয় স্বাস্থ্যসচেতন নেটওয়ার্ক তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

মানবিক কার্যক্রমে আস্থার প্রতিফলন
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যসচেতনতা, শিক্ষা সহায়তা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। পানছড়িতে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরিতেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার মতো সর্বজনীন মানবিক বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিচালিত কার্যক্রম স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তব ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করে।
আয়োজকদের মতে, প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সচেতন ও সক্ষম করে তোলা, যাতে তারা প্রয়োজনীয় সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
পানছড়িতে ২১ দিনব্যাপী এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি জনপদে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যজ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ তাই জনকল্যাণ ও মানবিকতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।