দুর্গম এলাকার ২০ যুবককে এসি-ফ্রিজ মেরামতের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সেনাবাহিনীর বান্দরবান জোন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
দুর্গম পার্বত্য এলাকার বেকার যুবকদের কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে বান্দরবানে শুরু হয়েছে এসি ও ফ্রিজ মেরামত বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ‘যুব উন্নয়ন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বান্দরবান মেঘলায় অবস্থিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২৮ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে বাছাই করা ২০ জন যুবক অংশ নিচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বান্দরবান জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন।
বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহাতাব উদ্দিন পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জোন অধিনায়ক বলেন, পার্বত্য তিন জেলার মধ্যে বান্দরবানে শিক্ষার হার তুলনামূলক কম। এ বাস্তবতায় সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে দুর্গম এলাকার বেকার ও কর্মক্ষম যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, এসি ও ফ্রিজ বর্তমানে শহরের পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য এলাকাতেও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এসব আধুনিক বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ কারিগরের অভাবে মানুষকে দূরবর্তী এলাকায় যেতে হয়। ফলে একদিকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়, অন্যদিকে সময়ও নষ্ট হয়। স্থানীয় যুবকদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা গেলে একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং স্থানীয় মানুষের প্রযুক্তিগত সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে শুধু প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়, বরং যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার একটি বাস্তবমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, এসি ও ফ্রিজ মেরামতের মতো কারিগরি পেশায় দক্ষতা অর্জনের পর প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা চাকরির পাশাপাশি নিজেরাই ছোট পরিসরে সার্ভিস সেন্টার বা মেরামতের ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। এতে বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
২৮ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী যুবকদের এসি ও ফ্রিজের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সম্পর্কে ধারণা, ত্রুটি শনাক্তকরণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের হাতে-কলমে দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আয়োজকদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিকল্প নেই। দুর্গম এলাকার অনেক যুবকের শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পরও উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় তারা দীর্ঘদিন বেকার থাকেন। তাদের প্রচলিত চাকরির ওপর নির্ভরশীল না রেখে কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে তুলতে পারলে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।
এ ধরনের উদ্যোগ পাহাড়ের দুর্গম এলাকার যুবকদের জন্য বিশেষভাবে কার্যকর বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, প্রত্যন্ত এলাকার যুবকদের জন্য বিনামূল্যে বা সহজলভ্য কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হলে তারা স্থানীয়ভাবেই আয় করার পথ খুঁজে পাবেন। এতে একদিকে পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
একই সঙ্গে প্রশিক্ষিত যুবকদের মাধ্যমে বান্দরবানের দুর্গম এলাকাগুলোতে এসি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা সহজলভ্য হবে। ফলে শহরকেন্দ্রিক কারিগরি সেবার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ও কম খরচে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আয়োজকেরা জানান, স্থানীয় চাহিদা ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মমুখী ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী ২০ জন যুবক অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করার পাশাপাশি এলাকার অন্যান্য তরুণদেরও অনুপ্রাণিত করবেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীলতা তৈরিতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার যুবকদের হাতে পেশাভিত্তিক দক্ষতা তুলে দেওয়া হলে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের উদ্যোগ বান্দরবানের বেকারত্ব কমানো, স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কার্যকর অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।