আলীকদমে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে সভা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন ও সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণের সক্ষমতা বাড়াতে বান্দরবানের আলীকদমে জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় আলীকদম উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। CANADA ও UNDP-এর উদ্যোগে পরিচালিত Community Resilience through Locally led Inclusive Adaptation in CHT (CoRLIA) প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ERRD-CHT-এর আয়োজনে ‘Upazila Level Advocacy of LRP’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহেল রানা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আসাদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিঠুন কুমার ঘোষ এবং ২ নম্বর চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন।
এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা সভায় অংশ নেন।
সভায় Local Resilience Plan (LRP)-এর বিভিন্ন দিক স্থানীয় জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি, জনগণের প্রয়োজন ও বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন শুধু পরিবেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি মানুষের জীবন, জীবিকা, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপরও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি তৈরি করছে। পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এসব অঞ্চলের জনগোষ্ঠী বন্যা, পাহাড়ধস, অতিবৃষ্টি, খরা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
তারা বলেন, জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। স্থানীয় মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে প্রকল্পগুলো যেমন বাস্তবসম্মত হবে, তেমনি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সভায় স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও জীবিকা নিরাপত্তা, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, দুর্যোগকালীন করণীয় এবং দুর্যোগ-পরবর্তী ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতা বাড়াতে স্থানীয় জনগণকে আরও সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের মতে, Local Resilience Plan (LRP) বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন, সমস্যা ও অগ্রাধিকারগুলো পরিকল্পিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে। এর ফলে স্থানীয় মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় বাস্তবতার আলোকে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা মনে করেন, পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।
আয়োজকরা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা তৈরির এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার উদ্যোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে আলীকদমের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা সুরক্ষা এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।