রুমায় সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে শেষ হলো ফুটবল টুর্নামেন্ট, নারী-পুরুষ দুই বিভাগেই জমজমাট ফাইনাল

রুমায় সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে শেষ হলো ফুটবল টুর্নামেন্ট, নারী-পুরুষ দুই বিভাগেই জমজমাট ফাইনাল

রুমায় সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে শেষ হলো ফুটবল টুর্নামেন্ট, নারী-পুরুষ দুই বিভাগেই জমজমাট ফাইনাল
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পাহাড়ের দুর্গম জনপদে খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের একত্রিত করা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন জোরদার এবং যুবসমাজকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে বান্দরবানের রুমায় আয়োজিত সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ শেষ হয়েছে। নারী ও পুরুষ বিভাগের পৃথক ফাইনালকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রুমা উপজাতীয় আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মাঠে খেলোয়াড়দের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা পরিণত হয় প্রাণবন্ত ক্রীড়া আয়োজনে।

রুমা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রুমা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার। অনুষ্ঠানে রুমা সরকারি সাঙ্গু কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুইপ্রুচিং মারমা, রুমা উপজাতীয় আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিময় চাকমা, রুমা অগ্রবংশ অনাথ আশ্রমের পরিচালক উঃ নান্দিয়া ভান্তে, ৩ নম্বর রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিরা বমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ফাইনাল দেখতে মাঠে জড়ো হন প্রায় পাঁচ শতাধিক দর্শক।

গত ২২ আগস্ট শুরু হওয়া এ টুর্নামেন্ট চলে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। নারী ও পুরুষ বিভাগ মিলিয়ে মোট ১০টি দল এতে অংশ নেয়। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ ও দর্শকদের আগ্রহে রুমায় ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়।

নারী বিভাগে অংশ নেয় দুটি দল। ফাইনালে রুমা উপজাতীয় আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের এ দল টাইব্রেকারে একই বিদ্যালয়ের বি দলকে ৫-৪ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

পুরুষ বিভাগে অংশ নেয় আটটি দল। ফাইনালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় ত্রিপুরা উড্ডয়ন স্পোর্টিং ক্লাব ২-১ গোলে রুমা উপজাতীয় আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি, মেডেল ও প্রাইজমানি তুলে দেন প্রধান অতিথি রুমা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার।

পুরুষ বিভাগের চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফি, মেডেল ও ২০ হাজার টাকা এবং রানার্সআপ দলকে ট্রফি, মেডেল ও ১০ হাজার টাকা প্রাইজমানি দেওয়া হয়। নারী বিভাগের চ্যাম্পিয়ন দল পায় ট্রফি, মেডেল ও ১০ হাজার টাকা এবং রানার্সআপ দলকে দেওয়া হয় ৫ হাজার টাকা প্রাইজমানি।

রুমায় সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে শেষ হলো ফুটবল টুর্নামেন্ট, নারী-পুরুষ দুই বিভাগেই জমজমাট ফাইনাল

খেলাধুলায় সম্প্রীতির বন্ধন

আয়োজকরা বলছেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় খেলাধুলার আয়োজন কেবল বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা, পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই রুমা জোনের পক্ষ থেকে এ টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে।

রুমা উপজাতীয় আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিময় চাকমা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর তরুণদের এগিয়ে নিতে রুমা জোনের সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও খেলাধুলায় সমানতালে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেবে।

রুমা অগ্রবংশ অনাথ আশ্রমের পরিচালক উঃ নান্দিয়া ভান্তে বলেন, রুমা জোনের এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি তাদের সমাজের জন্য ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুমা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে তোলার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। রুমার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের একসঙ্গে মাঠে এনে এ আয়োজনের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করাই তাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা রুমা জোনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও রুমা জোনের পক্ষ থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও সম্প্রীতিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়দের মতে, রুমার মতো দুর্গম পাহাড়ি উপজেলায় নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের সুযোগ সীমিত। ফলে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে তরুণ খেলোয়াড়দের যেমন নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে মিলনমেলার আবহ। বিশেষ করে নারী ফুটবল দলগুলোর অংশগ্রহণ স্থানীয় কিশোরী ও তরুণীদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খেলার মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল সৌহার্দ্য ও উৎসবের আবহ। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের ক্রীড়া কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে রুমার তরুণ প্রজন্ম আরও বেশি খেলাধুলামুখী হবে এবং মাদক, অপরাধ ও নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।