স্বর্ণ ও খনিজ খাতে বিনিয়োগ নিয়ে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে রুশ ধনকুবেরের বৈঠক

স্বর্ণ ও খনিজ খাতে বিনিয়োগ নিয়ে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে রুশ ধনকুবেরের বৈঠক

স্বর্ণ ও খনিজ খাতে বিনিয়োগ নিয়ে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে রুশ ধনকুবেরের বৈঠক
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

মিয়ানমারে খনিজ অনুসন্ধান ও খনিশিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাশিয়ার খনি খাতের ধনকুবের ভ্লাদিস্লাভ স্বিবলভ। বুধবার রাজধানী নেপিদোতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলন খাতে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

রাশিয়ার খনি কোম্পানি এরিয়াল গ্রুপের প্রধান স্বিবলভের এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন মিয়ানমারের জান্তা সরকার রাশিয়ার বিনিয়োগ আকর্ষণে তৎপরতা চালাচ্ছে। জান্তা-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের তথ্যমতে, বৈঠকে মিয়ানমার ও রাশিয়ার মধ্যে ‘পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার বিষয়ও উঠে আসে।

এরিয়াল গ্রুপ আগে ‘হাইল্যান্ড গোল্ড মাইনিং লিমিটেড’ নামে পরিচিত ছিল। মূল্যবান ধাতুর খাতের বাইরে সাধারণ, বিরল ও কৌশলগত খনিজ অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম সম্প্রসারণের পর প্রতিষ্ঠানটি নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এরিয়াল গ্রুপ ও প্রতিষ্ঠানটির মালিক স্বিবলভ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। একইভাবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া মিন অং হ্লাইং ও তাঁর সরকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা পেতে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে।

স্বিবলভ নেপিদোতে পৌঁছানোর দিনই মিয়ানমারের বিনিয়োগ কমিশন ১৬টি নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে বৃহৎ পরিসরে স্বর্ণ উত্তোলন প্রকল্পও রয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে আগস্টে অনুষ্ঠিত রাশিয়া-মিয়ানমার অর্থনৈতিক ফোরামে দেশটির খনিজ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলেন মিন অং হ্লাইং। সে সময় তিনি ‘মূল্য সংযোজিত খনিজ পণ্য’কে মিয়ানমারের নতুন রপ্তানি ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার কথা তুলে ধরেন।

২০২২ সালের পর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা রুশ কোম্পানিগুলো এশিয়ার বাজারের দিকে ঝুঁকেছে। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে থাকা মিয়ানমারের জান্তা সরকার রাশিয়ার পুঁজি আকর্ষণে আগ্রহী।

জান্তা সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের ধারণা, বুধবারের বৈঠকে বিরল মৃত্তিকা বা রেয়ার আর্থ খনিজ নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। বৈঠকে মিয়ানমারের প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী খিন মং ইয়ের উপস্থিতি এ ধারণাকে আরও জোরালো করেছে। এ ছাড়া গত জুনে সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে বিরল মৃত্তিকা খনিজ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন স্বিবলভ।

মিয়ানমারে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সমৃদ্ধ মজুত রয়েছে। দেশটি সীমান্তপথে চীনে বিশ্বের মোট ভারী বিরল মৃত্তিকা মৌলের প্রায় অর্ধেক রপ্তানি করে থাকে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ে নেপিদোর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগকে ঘিরে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিরল মৃত্তিকা সম্পদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থান পুনর্বিবেচনার পেছনে ভূমিকা রাখছে। জান্তা সরকারের সমর্থকেরাও এখন দাবি করছেন, বিরল মৃত্তিকা খনিজ মিয়ানমারের হাতে একটি ‘কৌশলগত তুরুপের তাস’ হিসেবে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভারতেরও আগ্রহের কথা তুলে ধরছেন তাঁরা।

তবে মিয়ানমারে আনুমানিক ৬০০টি বিরল মৃত্তিকা খনির প্রায় সবই জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এসব খনি মূলত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থিত।

জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বিনিয়োগের আমন্ত্রণ এবং ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ গড়ে তোলার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত রাশিয়ার খনি ব্যবসায়ীরা মিয়ানমারে উল্লেখযোগ্য কোনো বিনিয়োগ করেননি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *