পাকুয়াখালী গণহত্যা দিবসে রাঙামাটিতে পিসিএনপির শোকসভা ও দোয়া মাহফিল
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
১৯৯৬ সালের পাকুয়াখালী হত্যাকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে রাঙামাটিতে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাঙামাটি শহরের কাঁঠালতলীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের (পিসিএনপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনটির রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পিসিএনপি রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. হাবীব আজম।
শোকসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ সোলায়মান, রাঙামাটি জেলা শাখার সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম, মুফতি জাহিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি বখতিয়ার হোসেন ও যুগ্ম সম্পাদক আরিয়ান রিয়াজ। এ ছাড়া পিসিএনপি ও পিসিসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা ১৯৯৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাঙামাটির পাকুয়াখালীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ওই দিন পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। তাঁদের দাবি, তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনীর সদস্যদের হাতে ৩৫ জন বাঙালি কাঠুরিয়া নিহত হন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, পাকুয়াখালীতে কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া নিরস্ত্র বাঙালি শ্রমজীবী মানুষদের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁদের ভাষ্য, ঘটনাটি পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘাতের ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়, যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন তাঁরা।
শোকসভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত অতীতের সহিংসতার ঘটনাগুলোকে কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর উপাদান হিসেবে ব্যবহার না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
পিসিএনপি নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অতীতের সব হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি। তাঁদের দাবি, পাহাড়ে বাঙালি ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর পাশাপাশি সব ধরনের সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সশস্ত্র তৎপরতা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অবসান ঘটানো জরুরি। এ জন্য সশস্ত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
সভায় পিসিএনপি নেতারা জেএসএস ও ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে সংগঠন দুটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র তৎপরতার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তাঁরা।
এ সময় তাঁরা জেএসএস নেতা সন্তু লারমা ও ইউপিডিএফ নেতা প্রসীত বিকাশ খীসাসহ সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি ইউপিডিএফের সশস্ত্র শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বলে দাবি করা মাইকেল চাকমাকে গ্রেপ্তারেরও দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে কোনো পক্ষের সহিংসতা বা হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আড়াল করা উচিত নয়। অতীতের ঘটনাগুলোর সত্য উদঘাটন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার এবং ভবিষ্যতে সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপই হতে পারে পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতির ভিত্তি।
শোকসভা শেষে পাকুয়াখালী হত্যাকাণ্ডে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এতে পিসিএনপি ও পিসিসিপির নেতাকর্মীসহ উপস্থিত সবাই অংশ নেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।