অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান শিক্ষক চাই অং প্রু মারমাকে অক্ষত উদ্ধার করল যৌথবাহিনী
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকা থেকে অপহৃত নাইন্দারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাই অং প্রু মারমাকে অপহরণের প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বিত তৎপরতায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে থানচি সদরসংলগ্ন দুর্গম মায়ারাম এলাকা থেকে প্রধান শিক্ষক চাই অং প্রু মারমাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের নাইন্দারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের একটি দল প্রধান শিক্ষক চাই অং প্রু মারমাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধারে তৎপর হয়ে ওঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে অভিযান শুরু করে এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও তল্লাশি জোরদার করা হয়।
অপহরণের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে যৌথ বাহিনী দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে অভিযান চালাতে থাকে। একপর্যায়ে সন্দেহজনক দুর্গম মায়ারাম এলাকা ঘিরে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করলে অপহরণকারীরা বাহিনীর উপস্থিতি টের পায়। এ সময় তারা প্রধান শিক্ষক চাই অং প্রু মারমাকে সেখানে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অপহৃত একজন শিক্ষককে দ্রুত শনাক্ত করে তার অবস্থান নিশ্চিত করা এবং প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপদে উদ্ধার করার ঘটনায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর তৎপরতা বিশেষভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। দুর্গম ও প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশের মধ্যেও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত ব্যক্তিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার এই সাফল্য পাহাড়ি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীগুলোর সমন্বিত সক্ষমতারও প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রধান শিক্ষক চাই অং প্রু মারমাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের আটকে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের অপহরণের ঘটনায় পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ এবং অপহৃত শিক্ষককে নিরাপদে উদ্ধার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরিয়েছে।
অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীসহ যৌথ বাহিনীর নজরদারি ও তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।