পার্বত্য অঞ্চলের কৃষ্টি-সংস্কৃতির বিকাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা চান পার্বত্যমন্ত্রী
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ, বিকাশ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা কামনা করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, এমপি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় পার্বত্যমন্ত্রী তাঁর পিএস মোহাম্মদ রাশেদুল হককে সঙ্গে নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রীর কার্যালয়ে গেলে নিতাই রায় চৌধুরী তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
সাক্ষাৎকালে দুই মন্ত্রীর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং বিকাশ নিয়ে আন্তরিক আলোচনা হয়। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে দেশের মানুষের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর পরিচিতি বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বহুভাষাভাষী ও বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল। এসব জনগোষ্ঠীর রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস, নিজস্ব রীতিনীতি, জীবনধারা, বর্ণিল পোশাক-পরিচ্ছদ এবং বৈচিত্র্যময় লোকসংস্কৃতি। এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশের মধ্য দিয়ে পাহাড়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে বান্দরবানসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ১২টি জাতিসত্তার মানুষের মধ্যে সাম্য, সম্প্রীতি ও মৈত্রীর বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সাচিং প্রু বলেন, পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক জাগরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের এখনই উপযুক্ত সময়। কৃষ্টি ও সংস্কৃতির চর্চা শুধু একটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে না, বরং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে আত্মিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে আত্মিক দূরত্ব কমিয়ে আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে দুই মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের লোকসংগীত, লোকজ ঐতিহ্য, পোশাক, উৎসব, নৃত্য ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক উপাদান সংরক্ষণ এবং এসবের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের পরিচয় ও মেলবন্ধন বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় পার্বত্যমন্ত্রী আগামী ২৫ অক্টোবর বান্দরবানে অনুষ্ঠিতব্য প্রবারণা পূর্ণিমা ও পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মকে আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যকে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও জোরদারে ভূমিকা রাখবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।