সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়িতে দুটি মামলা, ‘হয়রানির চেষ্টা’ দাবি

সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়িতে দুটি মামলা, ‘হয়রানির চেষ্টা’ দাবি

সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়িতে দুটি মামলা, ‘হয়রানির চেষ্টা’ দাবি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ঢাকায় কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক মো. আবুল হোসেন ওরফে এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট মামলা দুটি করা হলেও প্রায় দুই সপ্তাহ পর ১৩ সেপ্টেম্বর বিষয়টি জানাজানি হয়। মামলা গোপন রেখে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুক।

জানা গেছে, মামলাগুলোর একটি করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সম্প্রতি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এম এন আবছার। সদর থানায় দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১৭ এবং তারিখ ৩০ আগস্ট ২০২৬। মামলায় এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে লেখালেখির অভিযোগ আনা হয়েছে।

অপর মামলাটি করেছেন খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি এইচ এম প্রফুল্ল। তাঁর দায়ের করা মামলার নম্বর ১৮, তারিখ ৩০ আগস্ট ২০২৬। এই মামলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুক দাবি করেছেন, মামলাগুলো তাঁর বিরুদ্ধে চলমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ ও তাঁর বিভিন্ন লেখালেখির জের। তাঁর ভাষ্য, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য ও লেখালেখি করেছেন। এর ফলে দলের অভ্যন্তরের কিছু গ্রুপ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে তিনি মনে করছেন।

এ এইচ এম ফারুক বলেন, তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা করছেন। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা, রোহিঙ্গা সংকট এবং ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে নিয়মিত উপসম্পাদকীয় ও কলাম লিখছেন এবং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে এসব বিষয়ে আলোচনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তিনি লেখালেখি করেন বলে জানান।

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তাঁর দাবি, এসব বিষয়ে লেখালেখির কারণে দলের অভ্যন্তরের কিছু গ্রুপের বিরাগভাজন হয়েছেন। একই সঙ্গে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়মে জড়িত বলে তিনি যাদের সমালোচনা করেছেন, তারাও তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এরই ধারাবাহিকতায় মামলা ও হয়রানির পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

এ এইচ এম ফারুক বলেন, “আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সবার আছে। আইনগতভাবেই এসব মামলা মোকাবিলা করা হবে।” তবে তিনি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের ফোন ট্র্যাকিং করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুক বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)-এর সদস্য এবং ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি। তিনি খাগড়াছড়ির স্থায়ী বাসিন্দা হলেও ২০০৯ সাল থেকে ঢাকায় কর্মরত। এর আগে ২০০৯ ও ২০১১ সালেও তিনি হামলা ও মামলার শিকার হয়েছিলেন বলে জানান।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed