যুবসমাজ বদলালে বদলাবে সমাজ ও রাষ্ট্র: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহমেদ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার গুলশাখালী বর্ডার গার্ড কলেজ মাঠে বিজিবির রাজনগর ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিজিবি) আয়োজিত জোন কমান্ডার্স কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস, অপরাধসহ নানা অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের মধ্যে ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।
ফাইনালে লংগদু উপজেলার গাউজপুর সিটি এফসির মুখোমুখি হয় বাঘাইছড়ি উপজেলার মধ্যমপাড়া আদর্শ যুব সংঘ। শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচটি হয়ে ওঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত গাউজপুর সিটি এফসি ১-০ গোলে মধ্যমপাড়া আদর্শ যুব সংঘকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিজিবির দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহমেদ।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি খেলাধুলাকে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় রাজনগর জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহনেওয়াজ তাসকিন আহমেদ, লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন, জোনের সহকারী পরিচালক কে এইচ এম জাকারিয়াসহ বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, রাজনগর জোনের আওতাধীন হেডম্যান ও কার্বারিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহমেদ বলেন, খেলাধুলা মানুষের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি যুবসমাজকে সামাজিক অবক্ষয়, অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখে। যুবসমাজ পরিবর্তিত হলে সমাজ ও রাষ্ট্রও ইতিবাচকভাবে পরিবর্তিত হবে।
তিনি বলেন, তরুণদের সঠিক পথে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে শিক্ষা, খেলাধুলা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দেশ ও সমাজের উন্নয়নে তরুণদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
রাজনগর ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এই ফুটবল টুর্নামেন্টকে স্থানীয় যুবসমাজের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগানো একটি ইতিবাচক আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে তরুণদের মাঠমুখী করতে এবং বিভিন্ন এলাকার যুবকদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার মাধ্যমে পারস্পরিক পরিচয়, সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে খেলাধুলার মতো ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তরুণদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের মাদক ও অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও দলগত চেতনা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে বিজিবির এমন আয়োজন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে যুবসমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে। খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকার তরুণদের অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি এ ধরনের উদ্যোগের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকেও আরও বাড়িয়ে তুলছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।